আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম জানা প্রতিটি প্রবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি দ্রুত, নিরাপদ এবং কম খরচে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে পারেন।
২০২৬ সালের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু আপডেট ও করসংক্রান্ত পরিবর্তন এসেছে, যা জানা না থাকলে অতিরিক্ত খরচ বা ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।
ব্যাংক ট্রান্সফার, অনলাইন মানি ট্রান্সফার অ্যাপ কিংবা মোবাইল ওয়ালেট- সব মাধ্যমেরই আলাদা সুবিধা রয়েছে। তাই সর্বশেষ নিয়ম, ফি, এক্সচেঞ্জ রেট এবং সরকারি প্রণোদনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সেরা মাধ্যমসমূহ
২০২৬ সালে আমেরিকা থেকে টাকা পাঠানোর জন্য বেশ কিছু জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী মাধ্যম রয়েছে:
| মাধ্যম (Service) | পেমেন্ট পদ্ধতি | সুবিধা |
| Taptap Send | ডেবিট কার্ড | জিরো ট্রান্সফার ফি এবং সর্বোচ্চ এক্সচেঞ্জ রেট। |
| Remitly | ব্যাংক, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড | খুব দ্রুত টাকা পৌঁছে এবং বিকাশে পাঠানোর সুবিধা আছে। |
| Wise (TransferWise) | ব্যাংক অ্যাকাউন্ট | স্বচ্ছ চার্জ এবং মিড-মার্কেট রেট। |
| Western Union | ক্যাশ, ব্যাংক, কার্ড | বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ক্যাশ পিকআপের সুবিধা। |
| Xoom (PayPal) | পেপাল অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক | পেপাল ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সহজ। |
আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া
আপনি যদি প্রথমবারের মতো কোনো অ্যাপ (যেমন: Remitly বা Taptap Send) ব্যবহার করে টাকা পাঠাতে চান, তবে নিচের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন:
-
অ্যাকাউন্ট তৈরি: প্রথমে আপনার স্মার্টফোনে পছন্দের অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং ইমেইল দিয়ে সাইন-আপ করুন।
-
পরিমাণ নির্ধারণ: আপনি কত ডলার পাঠাতে চান তা লিখুন। অ্যাপটি আপনাকে দেখাবে ওই ডলারের বিনিময়ে বাংলাদেশে কত টাকা পাওয়া যাবে এবং এক্সচেঞ্জ রেট কত।
-
প্রাপকের তথ্য: বাংলাদেশে যিনি টাকা পাবেন তার সঠিক নাম (আইডি কার্ড অনুযায়ী), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা বিকাশ নম্বর প্রদান করুন।
-
পেমেন্ট মেথড: আপনার আমেরিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য দিন।
-
যাচাই ও নিশ্চিতকরণ: সব তথ্য ঠিক আছে কিনা দেখে ‘Send’ বাটনে ক্লিক করুন।
সরকারি ২.৫% প্রণোদনা পাওয়ার নিয়ম
বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে রেমিট্যান্সের ওপর ২.৫% বোনাস দেয়। অর্থাৎ আপনি যদি ১০০ টাকা পাঠান, তবে প্রাপক ১০২.৫০ টাকা পাবেন।
-
৫,০০,০০০ (৫ লক্ষ) টাকার নিচে: কোনো কাগজপত্র ছাড়াই এই প্রণোদনা সরাসরি অ্যাকাউন্টে যোগ হয়ে যায়।
-
৫,০০,০০০ টাকার উপরে: এক্ষেত্রে প্রেরকের পাসপোর্টের কপি এবং পেশার প্রমাণপত্র (যেমন: পে-স্লিপ বা নিয়োগপত্র) ব্যাংকে জমা দিতে হতে পারে।
নতুন ১% মার্কিন রেমিট্যান্স ট্যাক্স (২০২৬ সালের নিয়ম)
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি আইন কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী:
-
আপনি যদি নগদ টাকা (Cash), মানি অর্ডার বা ক্যাশিয়ার চেক ব্যবহার করে বিদেশে টাকা পাঠান, তবে আপনাকে ১% অতিরিক্ত ফেডারেল ট্যাক্স দিতে হবে।
-
তবে সুখবর হলো, আপনি যদি আপনার মার্কিন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠান, তবে আপনাকে এই ১% ট্যাক্স দিতে হবে না। তাই অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
কেন বৈধ পথে টাকা পাঠাবেন?
হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানো কেবল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধই নয়, এতে আপনার টাকা হারানোর ঝুঁকি থাকে শতভাগ। অন্যদিকে, ব্যাংকিং চ্যানেল বা সরকার অনুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে আপনি পাচ্ছেন:
-
নিরাপত্তা: আপনার টাকার প্রতিটি পয়সার হিসাব থাকে।
-
সরকারি প্রণোদনা: বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে ২.৫% নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে।
-
দেশের উন্নয়ন: আপনার পাঠানো টাকা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে।
আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর টিপস
-
এক্সচেঞ্জ রেট তুলনা করুন: সব কোম্পানি একই রেট দেয় না। পাঠানোর আগে Google-এ বর্তমান রেট দেখে নিন এবং বিভিন্ন অ্যাপের রেট তুলনা করুন।
-
হিডেন ফি চেক করুন: অনেক সময় ট্রান্সফার ফি কম দেখালেও এক্সচেঞ্জ রেটে টাকা কেটে নেওয়া হয়। তাই “Reciepent will get” অপশনে গিয়ে মোট কত টাকা পৌঁছাবে তা নিশ্চিত হয়ে নিন।
-
সঠিক তথ্য ব্যবহার করুন: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটের (বিকাশ/নগদ) নম্বর দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। একটি ভুল ডিজিটের কারণে টাকা ভুল জায়গায় চলে যেতে পারে।
উপসংহার
আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং দ্রুততর। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করলে আপনি যেমন বাড়তি ১% মার্কিন ট্যাক্স থেকে বাঁচবেন, তেমনি বাংলাদেশে ২.৫% সরকারি বোনাসও নিশ্চিত করতে পারবেন। সর্বদা বৈধ পথ বেছে নিন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখুন।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
