আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি: ব্যক্তিগত, হোম লোন, গাড়ি, ব্যবসা
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী অনেকেই, কারণ এটি সুদমুক্ত ও শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করে।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ব্যক্তিগত লোন, হোম লোন, গাড়ি লোন ও ব্যবসায়িক লোনসহ বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ স্কিম পরিচালনা করে, যা গ্রাহকের আর্থিক চাহিদা পূরণে সহায়ক।
সহজ আবেদন প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ নিয়মনীতি ও নমনীয় পরিশোধ ব্যবস্থার কারণে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি, বিভিন্ন স্কিম এবং আবেদনের নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করব।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন কি আসলে লোন?
ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রথাগত ‘লোন’ বা ‘ঋণ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বিনিয়োগ’ (Investment) শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কারণ, এখানে ব্যাংক সরাসরি টাকা ধার দিয়ে তার ওপর সুদ নেয় না।
বরং ব্যাংক গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কিনে দেয় বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থায়ন করে এবং একটি নির্দিষ্ট মুনাফা (Profit) গ্রহণ করে। আল-আরাফাহ ব্যাংক সাধারণত বাই-মুয়াজ্জাল, বাই-মুরাবাহা এবং এইচপিএসএম (HPSM) পদ্ধতিতে এই বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
১. আল-আরাফাহ পারসোনাল ইনভেস্টমেন্ট (ব্যক্তিগত লোন)
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যেমন ইলেকট্রনিক্স কেনা, চিকিৎসা, বিয়ে বা বিদেশ ভ্রমণের জন্য ব্যাংক এই লোন প্রদান করে।
-
বিনিয়োগের পরিমাণ: ৫০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
-
মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৫ বছর (৬০ মাস)।
-
ন্যূনতম আয়: আবেদনকারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০,০০০ টাকা হতে হবে।
-
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এটি একটি ‘আনসিকিউরড’ বা জামানতবিহীন বিনিয়োগ। তবে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি বা চেক জমা দিতে হতে পারে।
২. আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হোম লোন/হোম ইনভেস্টমেন্ট (গৃহ ঋণ)

নিজের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য আল-আরাফাহ ব্যাংক আকর্ষণীয় গৃহ ঋণ সুবিধা প্রদান করে।
-
উদ্দেশ্য: ফ্ল্যাট কেনা, বাড়ি নির্মাণ, সংস্কার বা ইন্টেরিয়র ডিজাইন।
-
বিনিয়োগের সীমা: ৫ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত।
-
অনুপাত: সাধারণত ব্যাংক প্রপার্টি ভ্যালুর ৭০% পর্যন্ত অর্থায়ন করে (প্রবাসী বা NRB-দের জন্য ৭৫%)।
-
মেয়াদ: সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ।
-
গ্রেস পিরিয়ড: বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ১২ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড (কিস্তি পরিশোধে বিরতি) পাওয়া যায়।
৩. অটো ইনভেস্টমেন্ট (গাড়ি লোন)
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নতুন বা রিকন্ডিশন গাড়ি কেনার লোন এটি।
-
পরিমাণ: ৫ লক্ষ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
-
অনুপাত: সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে মূল্যের ৬০% এবং হাইব্রিড/ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৭০% পর্যন্ত ব্যাংক প্রদান করে।
-
মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৬ বছর।
৪. সিএমএসএমই (CMSME) ও ব্যবসা লোন
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আল-আরাফাহ ব্যাংকের বিশেষ কিছু স্কিম রয়েছে:
-
আল-আরাফাহ উদ্যোগ: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য।
-
আল-আরাফাহ খামারবাড়ি: কৃষি ও পশুপালন ভিত্তিক ব্যবসার জন্য।
-
নারী উদ্যোক্তা ঋণ: নারী ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে বিনিয়োগ।
লোন পাওয়ার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
আল-আরাফাহ ব্যাংক থেকে লোন পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
সাধারণ যোগ্যতা:
-
বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে।
-
বয়সসীমা সাধারণত ২৫ থেকে ৬৫ বছর (পেশাভেদে ভিন্ন হতে পারে)।
-
স্থায়ী আয়ের উৎস থাকতে হবে (চাকরি বা ব্যবসা)।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
-
ব্যক্তিগত: আবেদনকারীর ২ কপি ছবি, এনআইডি (NID), এবং ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট।
-
আয়ের প্রমাণ: বেতনভুক্তদের জন্য স্যালারি সার্টিফিকেট বা পে-স্লিপ। ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স এবং গত ২ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
-
জামানত: লোন ভেদে প্রপার্টির দলিল, পর্চা, মিউটেশন খতিয়ান বা ফিক্সড ডিপোজিট (MTDR) এর রসিদ।
-
গ্যারান্টার: সাধারণত দুইজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত গ্যারান্টি প্রয়োজন হয়।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন আবেদন করার পদ্ধতি
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে লোনের জন্য আবেদন করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ।
-
প্রাথমিক যোগাযোগ: আপনার নিকটস্থ আল-আরাফাহ ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ইনভেস্টমেন্ট ডেস্কের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।
-
ফরম পূরণ: ব্যাংক থেকে সরবরাহকৃত ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ফরম’ যথাযথভাবে পূরণ করুন।
-
ডকুমেন্ট জমা: আপনার আয়ের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন।
-
যাচাইকরণ: ব্যাংক আপনার ক্রেডিট রিপোর্ট (CIB) এবং দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই করবে।
-
অনুমোদন ও অর্থ বিতরণ: সব ঠিক থাকলে ব্যাংক লোন অনুমোদন করবে এবং আপনার একাউন্টে বা সরাসরি বিক্রেতার (যেমন গাড়ির শোরুম বা ফ্ল্যাট মালিক) কাছে অর্থ হস্তান্তর করবে।
বিশেষ সুবিধা ও চার্জ
-
প্রসেসিং ফি: সাধারণত লোনের পরিমাণের ওপর ০.৫০% থেকে ১% পর্যন্ত প্রসেসিং ফি থাকে (সর্বোচ্চ ১৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা)।
-
হিডেন চার্জ: আল-আরাফাহ ব্যাংক দাবি করে তাদের কোনো লুকানো চার্জ নেই।
-
আগাম পরিশোধ: আপনি চাইলে মেয়াদের আগে লোন পরিশোধ করে দিতে পারেন (এক্ষেত্রে কিছু শর্ত প্রযোজ্য)।
উপসংহার
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি বা বিনিয়োগ পদ্ধতি মূলত তাদের জন্য যারা সুদমুক্ত উপায়ে শরীয়াহ পালন করে নিজের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে চান। তবে লোন নেওয়ার আগে অবশ্যই বর্তমান মুনাফার হার এবং কিস্তির পরিমাণ সম্পর্কে ব্যাংকের হেল্পলাইন (১৬৪৩৪) বা সরাসরি শাখায় গিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
