রেমিটেন্স কত প্রকার ও কি কি?
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
রেমিটেন্স কত প্রকার ও কি কি জানা থাকলে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবার অর্থ লেনদেনের সঠিক মাধ্যম নির্বাচন করতে পারে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মূলত রেমিটেন্স দুই প্রকারের: ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এবং নন-ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা প্রেরণ নিরাপদ ও স্বচ্ছ, আর নন-ব্যাংকিং চ্যানেল যেমন বিকাশ, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা মানি গ্রাম দ্রুত ও সহজ লেনদেনের সুযোগ দেয়। এই লেখায় আমরা বিশ্লেষণ করব রেমিটেন্সের প্রকারভেদ, সুবিধা এবং কিভাবে প্রবাসীরা সহজ ও নিরাপদে তাদের পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারে।
আজকের ব্লগে আমরা রেমিট্যান্সের প্রকারভেদ, এর গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক সংজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
রেমিট্যান্স কী?
সহজ কথায়, বিদেশে কর্মরত কোনো ব্যক্তি যখন তার উপার্জিত অর্থ নিজের দেশে পাঠান, তখন তাকে রেমিট্যান্স (Remittance) বা প্রবাসী আয় বলা হয়।
রেমিট্যান্স কত প্রকার ও কী কী?
অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম এবং প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে রেমিট্যান্সকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স (Inward Remittance):
যখন কোনো প্রবাসী বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠান। বাংলাদেশের জন্য প্রবাসীদের পাঠানো অর্থই হলো ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স।
২. আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স (Outward Remittance):
যখন দেশ থেকে কোনো অর্থ বিদেশে পাঠানো হয় (যেমন: বিদেশে পড়াশোনার খরচ বা চিকিৎসার জন্য পাঠানো টাকা)।
এছাড়াও পাঠানোর মাধ্যমের ভিত্তিতে এটি দুই প্রকার:
-
ফরমাল বা বৈধ রেমিট্যান্স: ব্যাংক, মানি ট্রান্সফার এজেন্সি (যেমন: ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন) বা বৈধ এমএফএস (বিকাশ/নগদ) এর মাধ্যমে আসা অর্থ।
-
ইনফরমাল বা অবৈধ রেমিট্যান্স: হুন্ডি বা অন্য কোনো অননুমোদিত উপায়ে পাঠানো অর্থ, যা জাতীয় রিজার্ভে যোগ হয় না।
রেমিট্যান্স অর্থনীতি বলতে কী বোঝ?
রেমিট্যান্স অর্থনীতি (Remittance Economy) বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে একটি দেশের জাতীয় আয়ের (GNI) একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ থেকে।
যখন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা শিল্পখাত যথেষ্ট শক্তিশালী হয় না, তখন সেই দেশ জনশক্তি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে যখন দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো হয়, রিজার্ভ বাড়ানো হয় এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন করা হয়, তখন সেই সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে রেমিট্যান্স অর্থনীতি বলা হয়। বাংলাদেশ এই অর্থনীতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
রেমিট্যান্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রেমিট্যান্স একটি দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এর গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো:
-
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: এটি দেশের ডলারের রিজার্ভকে সমৃদ্ধ করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য জরুরি।
-
দারিদ্র্য বিমোচন: রেমিট্যান্স সরাসরি প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌঁছায়, ফলে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
-
আমদানি ব্যয় মেটানো: জ্বালানি তেল, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের যোগান দেয় রেমিট্যান্স।
-
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ঠিক রেখে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
রেমিট্যান্স কী ধরনের চলক? (Economic Variable)
অর্থনীতির ভাষায়, রেমিট্যান্স হলো একটি ‘এক্সোজেনাস ভেরিয়েবল’ (Exogenous Variable) বা বহির্জাত চলক।
এর কারণ হলো, রেমিট্যান্সের পরিমাণ সাধারণত দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে বাইরের দেশের (যেখানে শ্রমিকরা কাজ করছেন) অর্থনৈতিক অবস্থা, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের ওপর বেশি নির্ভর করে।
এছাড়াও এটি জাতীয় আয়ের একটি উপাদান, যা দেশের জিডিপি (GDP) এবং জিএনআই (GNI)-এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQs)
রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইংরেজি কি?
“রেমিট্যান্স যোদ্ধা” এর প্রচলিত ইংরেজি হলো “Remittance Warrior”। এটি সাধারণত প্রবাসী বা বিদেশে কাজ করা ব্যক্তিদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয় যারা তাদের পরিবারকে নিয়মিত অর্থ পাঠান এবং পরিবারের আর্থিক সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
রেমিট্যান্সের ওপর সরকার কত শতাংশ প্রণোদনা দেয়?
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে ২.৫% থেকে ৫% পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে (এটি সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে)।
হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো কি অপরাধ?
হ্যাঁ, হুন্ডি একটি অবৈধ মাধ্যম। এর মাধ্যমে টাকা পাঠালে তা দেশের জাতীয় রিজার্ভে যোগ হয় না এবং এটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
রেমিট্যান্স কি জিডিপিতে (GDP) যুক্ত হয়?
না, রেমিট্যান্স সরাসরি জিডিপিতে (Gross Domestic Product) যুক্ত হয় না কারণ এটি দেশের ভেতরে উৎপাদিত কোনো পণ্য বা সেবা নয়। তবে এটি জিএনআই (GNI – Gross National Income)-তে যুক্ত হয়।
সরকার রেমিট্যান্সে কি প্রণোদনা দেয়?
বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সে বাংলাদেশ সরকার সাধারণত ২.৫% থেকে ৫% পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দেয়।
রেমিট্যান্স জিডিপিতে যুক্ত হয় কি?
না, এটি জিডিপিতে সরাসরি যুক্ত হয় না, তবে জিএনআই-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
উপসংহার
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ শুধু পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নত করে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় পূরণ এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও অবদান রাখে। রেমিট্যান্সের বৈধ ও নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারে।
তবে হুন্ডি বা অবৈধ উপায়ে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক চ্যানেল ব্যবহার, প্রণোদনা গ্রহণ এবং নিয়মিত অর্থ পাঠানো রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।

One Comment