অনলাইনে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক করার নিয়ম
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
অনলাইনে এজেন্সির মাধ্যমে, কিংবা সরাসরি নির্দেশন অফিসে গিয়ে, যেকোনোভাবেই সৌদি আরব ভিসার জন্য আবেদন করা হোক না কেন, অনলাইনে ভিসার তথ্য, কিংবা পাসপোর্ট নাম্বারের সাহায্যে খুব সহজেই ভিসা স্ট্যাটাস চেক করা যায়।
কেউ যদি অনলাইনে সৌদি আরবের ভিসার স্ট্যাটাস চেক করার পর তার ভিসা অ্যাপ্রুভ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
নিচে সৌদি আরবিয়ান ভিসা স্ট্যাটাস চেক সম্পর্কিত গাইড উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরব ভিসা স্ট্যাটাস
সৌদি আরবের যেকোনো ভিসার জন্য আবেদন করার পর, এটি কিংডম অফ সৌদি আরবিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক এপ্রুভাল পেতে সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ভিসার অ্যাপ্রুভাল হয়ে গেলে, এটি এসএমএস নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে, কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে কাজের চাপের কারণে এটি জানাতে দেরি ও হতে পারে।
সুতরাং, এই ক্ষেত্রে ভিসার স্ট্যাটাস চেক করে নেওয়া যায়। যদি আপনার ভিসা এপ্রুভ হয়ে থাকে, তাহলে এটি আপনি সংগ্রহ করে সৌদি আরব যাত্রা করতে পারবেন।
সৌদি ভিসা চেক করতে কী কী লাগে?
সৌদি আরব যেকোনো ভিসার জন্য আবেদন করার পর, এটির স্ট্যাটাস অনলাইনে চেক করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
আপনি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার, কিংবা ভিসা নাম্বার, অথবা পাসপোর্ট নাম্বারের সাহায্যে ভিসার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
যদি আপনি সৌদি আরবে হজ করার জন্য ভিসার আবেদন করে থাকেন, তাহলে হজ মিনিস্ট্রি রেফারেন্স নাম্বার দিয়েও ভিসার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন এবং এর সাথে আপনার নাম যোগ করতে পারেন।
এই তথ্যগুলোর মধ্য হতে যেকোনো দুইটি তথ্য আপনাকে প্রদান করতে হবে।
অনলাইনে সৌদি ভিসা চেক করার নিয়ম
চলুন, তাহলে আলোচনার মূল পয়েন্টে যাওয়া যাক। অনলাইনে সৌদি আরবিয়া ভিসার স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করবেন, সেটি আলোচনা করা হয়েছে এই পয়েন্টে।
এজন্য, উপরে মেনশন করা তথ্যের মধ্যে যেকোনো দুইটি তথ্য সংগ্রহ করে, ভিসার স্ট্যাটাস চেক করার জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
- প্রথমে, ভিজিট করুন Saudi Arabia Visa Platform ওয়েবসাইটে।
- এখানে ভিজিট করলে, আপনি সব আরবি লেখা দেখতে পাবেন। যদি আপনি আরবি না বোঝেন, তাহলে উপরের ম্যানুয়াল থেকে ‘E‘ বাটনে প্রেস করুন। ‘E’ বাটনে প্রেস করলে, এই পেজটি ইংরেজি হয়ে যাবে।

- ইংরেজি হয়ে যাওয়ার পর, আপনি সবকিছু বুঝতে পারবেন। এখানে তথ্য দেওয়ার জন্য কয়েকটি বক্স রয়েছে।

- প্রথম First Value বক্স থেকে, ভিসা নাম্বার, পাসপোর্ট নাম্বার, অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার, নাম, কিংবা হজ মিনিস্ট্রি রেফারেন্স নাম্বারের যেকোনো একটি সিলেক্ট করুন এবং সিলেক্ট করার পর, ডান পাশে সেই তথ্যটি প্রদান করুন।
- এরপর, নিচের Second Value বক্স থেকেও যেকোনো একটি সিলেক্ট করতে হবে।
তবে, প্রথম বক্সে আপনি যেটি সিলেক্ট করেছেন, দ্বিতীয় বক্সে সেটি সিলেক্ট করা যাবে না। দ্বিতীয় বক্সে অন্য একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে।
যেমন, আপনি প্রথম বক্সে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার সিলেক্ট করতে পারেন এবং দ্বিতীয় বক্সে আপনার নাম সিলেক্ট করে, সেই তথ্যটি ডান পাশে বক্সে প্রদান করতে পারেন।
- এরপর, নিজের Nationality বক্স থেকে আপনার ন্যাশনালিটি সিলেক্ট করুন।
- এরপর, সবার নিচে একটি নাম্বারিং Captcha দেওয়া আছে। এই নাম্বারগুলো সঠিকভাবে উত্তর বক্সে বসিয়ে দিন।
- এরপর, নিচে Enquire বাটনে প্রেস করুন।
- তাহলেই, পেজটি রিলোড হবে এবং আপনার তথ্যগুলো ঠিক থাকলে, ভিসার স্ট্যাটাস শো করবে।
- যদি আপনার ভিসা এপ্রুভ হয়ে থাকে, তাহলে এখান থেকে আপনি এটি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
সৌদি আরব ভিসার মেয়াদ চেক করার নিয়ম
সৌদি আরবে ভিসা পাওয়ার পর এবং দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে থাকার পর, ভিসার ভ্যালিডিটি বা এক্সপায়ার ডেট চেক করতে চান। এটি করতে হলে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
- সৌদি আরবে ভিসা ভ্যালিডিটি চেক করার জন্য, প্রথমেই ভিজিট করুন Abser পোর্টালে।
- এখানে ভিজিট করার পর, দেখতে পাবেন ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার জন্য অপশন দেওয়া থাকবে।
- যদি আপনার এই ওয়েবসাইটে কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে সবার শেষে New User বাটনে ক্লিক করে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
- নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য, পার্সোনাল ইনফরমেশন সেকশনে আপনার আইডি ইকামা নাম্বার কিংবা বর্ডার নাম্বার প্রদান করতে হবে।
- এরপর, সৌদি আরবে অবস্থানরত একটি মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল অ্যাড্রেস প্রদান করতে হবে।
- এরপর, একাউন্ট ইনফরমেশন সেকশনে আপনাকে একটি ইউজারনেম তৈরি করতে হবে। এটি হতে পারে বিভিন্ন লেটার, নাম্বার এবং চিহ্নের সমন্বয়ে।
- সুতরাং, এখানে একটি ইউজারনেম প্রদান করুন এবং নিচে মিনিমাম নয় ক্যারেক্টারের একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
- পাসওয়ার্ড তৈরি করার পর, পাসওয়ার্ড কনফার্মেশন বক্সে পুনরায় আপনার তৈরি করা পাসওয়ার্ডটি প্রদান করুন।
- পরবর্তীতে, লগইন করার জন্য ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
- এরপর, নিচে আপনি কোন ভাষা বেশি পছন্দ করেন- আরবি নাকি ইংরেজি, সেটি সিলেক্ট করুন।
- এরপর, নিচে একটি ক্যাপচা নাম্বার দেওয়া থাকবে, এটি উত্তর বক্সে বসিয়ে দিন। এরপর, Terms of use and privacy policy অপশনের বাম পাশে চেক মার্ক দিন। এরপর, Next বাটনে ক্লিক করতে হবে।
- পরবর্তী ধাপে, আপনার মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করা হবে। মোবাইল নাম্বারে একটি OTP আসবে, সেটি এখানে বসিয়ে ভেরিফাই করুন। তাহলেই আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
- অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে, আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড প্রদান করে লগইন করুন।
- এরপর, মেইন মেনু থেকে “Resident” অপশনটি ক্লিক করুন। এরপর, আপনার ভিসা ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুন।
- এরপর, তথ্য প্রদানের জন্য কিছু বক্স আসবে। যেমন:
Resident Permit Number
Employer ID Number
Visual Code
Visa Number
Passport Number
- এই তথ্যগুলো প্রদান করে, Submit বাটনে ক্লিক করলেই আপনার বর্তমান ভিসার ভ্যালিডিটি সম্পর্কিত তথ্য শো করবে।
সৌদি ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
সৌদি আরবিয়ান ভিসা ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে এর এপ্রুভাল সময় নির্ধারিত হয়ে থাকে।
যেমন, যদি আপনি সৌদি আরবে টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন, তাহলে এটি ৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই এপ্রুভ হয়ে থাকে। তবে, যদি অতিরিক্ত ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়, তাহলে ১ থেকে ২ দিন সময় লাগে।
অন্যদিকে, যদি আপনি কাজের ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে অ্যাপ্রুভাল পেতে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।
যদি আপনি ওমরাহ ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে ২৪ ঘণ্টা থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, যদি হজ ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে এটি অ্যাপ্রুভ হয়ে থাকে।
সুতরাং, মোট কথা সৌদি আরবের ভিসা প্রসেসিং সময় সাধারণত ভিসা ক্যাটাগরির উপর এবং অতিরিক্ত ভেরিফিকেশনের উপর নির্ভর করে। ফলে, সময় কম বা বেশি লাগতে পারে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
