অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক ও ডাউনলোড করার নিয়ম ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
বাংলাদেশ থেকে কিংবা বিদেশ থেকে যেখান থেকেই হোক না কেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভোটার আইডি কার্ড কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইনে চেক করা কিংবা ডাউনলোড করা এখন আগের থেকে অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুততর হয়ে গেছে।
যারা ইতিমধ্যেই এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন এবং এনআইডি কার্ড হাতে পাননি, তারা খুব সহজেই নির্বাচন অফিস থেকে প্রদত্ত ফরম নাম্বারটির সাহায্যে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
এছাড়াও, যারা এনআইডি স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়েছেন কিন্তু এখন এই মুহূর্তে তাদের কাছে স্মার্ট কার্ডটি হাতে নেই, তারা যেকোনো জায়গা থেকে অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে সেটি দ্বারা বিভিন্ন জরুরি কাজগুলো করতে পারবেন।
আমার প্রয়োজনে আমি মাঝেমধ্যেই এনআইডি কার্ড যখন প্রয়োজন, তখন ডাউনলোড করে থাকি। আজকে আমি আপনাকে সেই প্রসেসটি দেখিয়ে দেবো, যেটি আমি নিচে ধাপে ধাপে খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে এবং বুঝিয়ে উপস্থাপন করেছি।
জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড
অনেকেই অনলাইনে এনআইডি কার্ড চেক করতে চান এবং অনেকেই ডাউনলোড করতে চান।
যারা মূলত নতুন NID Registration আবেদন করেছেন, তারা তাদের স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার আগেই অনলাইনে তাদের স্মার্ট কার্ডটি দেখতে চান যে সব তথ্য ঠিক আছে কিনা। এক্ষেত্রে, তারা অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই তা চেক করতে পারবেন।
তবে, চেক করার পর যদি তার এনআইডি কার্ডের জরুরি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে তিনি অনলাইন থেকে সেটা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
অন্যদিকে, যারা বাইরে আছেন কিংবা বাংলাদেশেই বাড়ি থেকে অনেক দূরে আছেন, এদের মধ্যে যারা এনআইডি কার্ড বাসায় রেখে এসেছেন, তারা বর্তমানে যেখানে আছেন সেখান থেকেই তাদের এনআইডি কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
কারণ, এনআইডি কার্ডের নাম্বার ছাড়া বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক কোনো কাজ করা যায় না। যে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন পড়ে।
সুতরাং, অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড চেক করা এবং ডাউনলোড করা বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি বৈধ অধিকার।
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে, যখন আপনি একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন তখন সেই অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো সময় যখন ইচ্ছা তখনই এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার পর সেটি প্রিন্ট করে ল্যামিনেটিং করে নিলে অরিজিনাল স্মার্ট কার্ডের মতোই মনে হবে, যেটা দ্বারা আপাতত এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত জরুরি কাজগুলো সমাধান করতে পারবেন।
তবে, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভেরিফিকেশনের জন্য অবশ্যই নির্বাচন অফিস কর্তৃক প্রদত্ত অরিজিনাল স্মার্ট আইডি কার্ড প্রয়োজন হবে।
অনলাইনে কি এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা সম্ভব?
হ্যাঁ, একটি স্মার্টফোন হাতে থাকলেই অনলাইন থেকে স্মার্ট এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। আমাদের মধ্যে এখন অনেকেই মনে করে থাকেন যে এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপিটি শুধুমাত্র চেক করা যায় কিন্তু ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায় না।
কিন্তু না, অনলাইনে এনআইডি কার্ড চেক করে সেটা ডাউনলোড করা যায় এবং প্রিন্ট করে এনআইডি কার্ডের মতোই ব্যবহার করা যায়।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে কী কী লাগে?
এনআইডি কার্ড অনলাইনে চেক কিংবা ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে যেই তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে, সেগুলো হচ্ছে:
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে একটি স্মার্টফোন লাগবে এবং ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য আরেকটি স্মার্টফোন প্রয়োজন হবে।
তবে, যদি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ থাকে এবং একটি স্মার্টফোন থাকে তাহলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে।
এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে NID Wallet ইন্সটল করে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ:
- একটি সচল মোবাইল নাম্বার
- এনআইডি নাম্বার কিংবা আবেদনের ফরম নাম্বার
- জন্ম তারিখ
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম
এবারে চলুন আমরা ধাপে ধাপে জেনে নিই, কিভাবে অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।
এজন্য উপরে মেনশন করা ডিভাইস এবং তথ্যগুলো সংগ্রহ করুন এবং নিচে দেওয়া প্রত্যেকটি ধাপ সঠিকভাবে এবং মনোযোগের সাথে অনুসরণ করুন।
প্রথম ধাপ: এনআইডি ওয়েবসাইটে ভিজিট করা
- এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে।
- এজন্য প্রথমেই ভিজিট করুন Services NIDW Gov BD ওয়েবসাইটে।
- এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করলে আপনি মূলত দুইটি অপশন দেখতে পাবেন, একটি হচ্ছে “রেজিস্টার করুন” এবং আরেকটি হচ্ছে “আবেদন করুন“।

- আপনি যেহেতু এনআইডি কার্ডের জন্য অলরেডি আবেদন করেছেন বা পেয়েছেন, এজন্য “রেজিস্টার করুন” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করা
- এনআইডি ডাউনলোডের দ্বিতীয় ধাপে, আপনাকে অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করার জন্য কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে।

- এখানে প্রথম বক্সে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অর্থাৎ, আপনি যদি অলরেডি জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে থাকেন, তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরটি এখানে প্রদান করুন।
- আর যদি এখনো হাতে স্মার্ট কার্ড না পেয়ে থাকেন, তাহলে আবেদন করার সময় নির্বাচন অফিস থেকে যে একটি ফরম প্রদান করা হয়েছিল, ওই ফরম নাম্বার এখানে প্রদান করতে হবে।
- এরপর দ্বিতীয় বক্সে দিন, মাস এবং বছর অনুযায়ী আপনার জন্ম তারিখ প্রদান করুন।
- এটি করা হয়ে গেলে নিচে ঝাপসা একটি ক্যাপচা অক্ষর দেওয়া থাকবে। এই অক্ষরগুলোর উত্তর বক্সে বসিয়ে দিতে হবে।
- এরপর “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।
তৃতীয় ধাপ: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করা
- এনআইডি ডাউনলোড করার তৃতীয় ধাপে আপনাকে বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করতে হবে। এগুলো মূলত সিলেক্ট করতে হবে।

- আপনার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা নির্বাচন করতে হবে।
- আপনার যদি বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা একই হয়ে থাকে, তাহলে উভয়টি একইভাবে সিলেক্ট করুন।
চতুর্থ ধাপ: মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন
- এনআইডি ডাউনলোড করার চতুর্থ পর্যায়ে, আপনাকে মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করতে হবে।
এখানে মূলত একাউন্ট রেজিস্টার এর জন্য একই নাম্বার উল্লেখ করা থাকবে, যেটি আপনি এনআইডি আবেদনের সময় প্রদান করেছিলেন।

- এই নাম্বারটি যদি আপনার কাছে বর্তমান থাকে, তাহলে “বার্তা পাঠান” অপশনটিতে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার ফোনে একটি OTP চলে আসবে, যেটি ভেরিফাই করতে হবে।
- আর যদি উক্ত মোবাইল নাম্বারটি আপনার কাছে না থাকে, তাহলে “মোবাইল পরিবর্তন” অপশনটিতে ক্লিক করে নতুন একটি মোবাইল নাম্বার প্রদান করতে হবে এবং সেটির OTP ভেরিফিকেশন করতে হবে।
- সুতরাং, “বার্তা পাঠানোর” অপশনটিতে ক্লিক করলে আপনার ফোনে যেই ওটিপি চলে আসবে, সেটি পরবর্তী ধাপে বসিয়ে দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
পঞ্চম ধাপ: ফেইস ভেরিফিকেশন
- উপরের তথ্যগুলো প্রদান করা হয়ে গেলে, আপনার সামনে অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করার জন্য একটি কিউআর কোড আসবে।
এটি অন্য একটি ডিভাইস দিয়ে স্ক্যান করতে হবে।

- এজন্য আপনার অন্য একটি স্মার্টফোনে Play Store কিংবা App Store থেকে NID Wallet অ্যাপটি ইন্সটল করুন।
এরপর সেটি ওপেন করুন এবং এই QR Code টি উক্ত ফোন দ্বারা স্ক্যান করুন।

- স্ক্যান করার পর, ফেস ভেরিফিকেশন এর জন্য অপশন আসবে।
- সেখানে “Start Face Scan” বাটনে ক্লিক করে ক্যামেরা ওপেন করে নিতে হবে।
- এরপর যার NID কার্ড ডাউনলোড করছেন, তার মুখ বরাবর উক্ত ফোনটি ধরতে হবে।
- মাথা সামান্য ডানে-বামে এবং উপর-নিচে করুন।
- এরপর চোখ দুটি হালকা মিটমিট করুন। তাহলে সঠিকভাবে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।
- ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে, আপনি যেই ডিভাইসে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য তথ্যগুলো দিচ্ছিলেন, ওই ডিভাইসে অটোমেটিক্যালি রিলোড হবে এবং পাসওয়ার্ড সেট করার জন্য অপশন চলে আসবে।
ষষ্ঠ ধাপ: পাসওয়ার্ড সেটআপ করা
- এনআইডি ডাউনলোড করার কষ্টের পর্যায়ে এসে আমরা পাসওয়ার্ড সেটআপ করার জন্য একটি পেজ পাবো।

- আপনি যদি মাঝেমধ্যে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে চান, তাহলে এখানে একটি পাসওয়ার্ড সেটআপ করে নিন। তাহলে এই ধাপগুলো আপনাকে বারবার অতিক্রম করতে হবে না।
- শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনি যখন ইচ্ছা, তখন এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
- সুতরাং, এখানে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সেট পাসওয়ার্ড বাটনে ক্লিক করুন।
ফাইনাল ধাপ: এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা
- Congratulation! আমরা এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার একদম মূল ধাপে চলে এসেছি।
- পাসওয়ার্ড সেটআপ করার পর, নিচের ছবির মত একটি ইন্টারফেস আপনার ডিভাইসে শো করবে।

- এখানে আপনার নামসহ ডান পাশে প্রোফাইল, ইস্যু, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, এবং ডাউনলোড নামে চারটি অপশন দেওয়া থাকবে।
- এই অপশনগুলোর মধ্যে থেকে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলে আপনার সামনে এনআইডি কার্ডটি শো করবে। এটি মূলত PDF আকারে ডাউনলোড হয়ে যাবে।
- এটি আপনার ডিভাইসে ডাউনলোড করে নিন।
- ডাউনলোড করার পর, যেকোনো জায়গা থেকে এটি প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে নিতে পারবেন এবং এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজগুলো সমাধান করতে পারবেন।
এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি দিয়ে কী কী করা যায়?
এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা হয়ে গেলে এই অনলাইন কপি দিয়ে আপনি কি কি করতে পারবেন সেটি হচ্ছে এখন মূল ব্যাপার।
মূলত যে কাজগুলোতে অরিজিনাল এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন পড়ে, সেগুলো বাদে বাকি সকল ক্ষেত্রে আপনি এই এনআইডি কার্ডটি ব্যবহার করতে পারবেন।
মূল কাজ বলতে ধরুন, আপনি যদি কোথাও চাকুরির জন্য আবেদন করেন, সেখানে আপনার মৌখিক পরীক্ষার সময় অরিজিনাল এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হবে।
তাছাড়া, কোন প্রোপার্টি ক্রয়-বিক্রয় করতে গেলেও অরিজিনাল এনআইডি কার্ড সহ অন্যান্য সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়।
মূলত এইরকম বড় ধরনের কাজগুলো ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে আপনি এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপিটি ব্যবহার করতে পারবেন।
আমার মতে, এটাই উত্তম পন্থা, আপনার অরিজিনাল স্মার্ট কার্ড দিয়ে আপনি বাসায় ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন এবং অনলাইন থেকে ডাউনলোডকৃত আইডি কার্ডের কপিটি লেমিনেটিং করে নিজের কাছে সবসময় রাখতে পারেন যেটি আপনি যে কোন কাজে সবসময় ব্যবহার করতে পারবেন এবং এটি হারানোর ভয় থাকবে না।
এনআইডি কার্ডে কোনো ভুল তথ্য থাকলে করণীয় কী?
যদি আপনার এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার পর এনআইডি কার্ডে কোন প্রকার ভুল তথ্য দেওয়া থাকে, যেমন নামের ক্ষেত্রে, বা পিতা-মাতার নামের ক্ষেত্রে, কিংবা জন্ম তারিখে অথবা ঠিকানার ক্ষেত্রে তখন কি করবেন?
চিন্তার কোন কারণ নেই। তখন খুব সহজেই আপনি তথ্যগুলো সংশোধন করতে পারবেন। আপনি এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার ফাইনাল যে পর্যায়ে ছিলেন, সেখানে প্রোফাইল নামের একটি বাটন ছিল। এই প্রোফাইল বাটনে ক্লিক করলেই তথ্য এডিটের অপশন পেয়ে যাবেন।
এডিট বাটনে ক্লিক করলেই আপনি যেকোন তথ্য সংশোধন করে নিতে পারবেন। তবে এটি সংশোধনের আবেদন করার পর অন্তত ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে অনলাইনের ডেটাবেজে সংশোধন হওয়ার জন্য। তবে তথ্য সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করতে হয়।
বিদেশ থেকে কিভাবে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা যায়?
আপনি যদি বাংলাদেশের বাহিরে, অর্থাৎ বিদেশে অবস্থান করেন, এবং সেখানে আপনার এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি প্রয়োজন হয়ে থাকে, তখন আপনি কি করবেন?
উত্তর হচ্ছে, তখনও উপরে আলোচনা করা একই পদ্ধতিতেই এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। শুধু মোবাইল ভেরিফিকেশন করার ক্ষেত্রে আপনি ওই দেশের একটি মোবাইল নাম্বার প্রদান করে সেটি ভেরিফিকেশন করতে পারবেন।
অথবা আপনি চাইলে আপনার নিজ দেশের পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে একটি মোবাইল নাম্বার নিয়ে সেটি প্রদান করে ওটিপি সংগ্রহ করতে পারবেন এবং এটি ভেরিফিকেশন করতে পারবেন।
উক্ত পদ্ধতিতে আপনার বিদেশে অবস্থানে থেকেও এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে কি কোনো ফি লাগে?
না, এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ফি প্রদান করতে হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার এনআইডি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে একদম ফ্রিতে নাগরিকদেরকে সেবা প্রদান করার নির্দেশনা দিয়েছে।
এজন্য বর্তমানে এনআইডি কার্ড আবেদন করার ক্ষেত্রে কোন ফি দিতে হয় না, এবং অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতেও কোন ফি দিতে হয় না। তবে এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য।
এনআইডি কার্ড আবেদন করার কতদিন পর স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায়?
এটি শুধু আপনার নয়, অনেকেরই প্রশ্ন, যারা ইতোমধ্যেই এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। বাংলাদেশের এর আগে এনআইডি কার্ডের আবেদন করার পর সেটি হাতে পেতে তিন মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছরও সময় লেগেছিল।
কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুততম সেবা প্রদানের নির্দেশনার জন্য, এনআইডি কার্ড আবেদন করার পর তিন মাসের মধ্যেই স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়া যায়।
ভোটার আইডি কার্ড চেক সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর
এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং তার উত্তর আমি এখানে প্রদান করেছি, যেগুলো আপনার কাজে লাগতে পারে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো:
এনআইডি কার্ড নাম্বার বা ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে কিভাবে এটি ডাউনলোড করব?
যদি আপনার এনআইডি কার্ড না থাকে, কিংবা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করার জন্য যে ভোটার স্লিপের প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ নির্বাচন অফিস থেকে প্রদত্ত ফরম নাম্বারটি প্রয়োজন হয়, এটিও যদি আপনি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে আপনাকে প্রথমে নির্বাচন অফিসে ভিজিট করতে হবে।
এরপর আপনার মোবাইল নাম্বার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করার মাধ্যমে আপনার ভোটার স্লিপ নাম্বার খুঁজে পেতে পারেন, কিংবা এনআইডি কার্ডের নাম্বারটি পেয়ে যেতে পারেন।
অনলাইনে এনআইডি একাউন্ট লক হওয়ার কারণ কি?
অনেক সময় আমরা অনলাইনে এনআইডি একাউন্ট লক হওয়ার মতো ঘটনা দেখতে পাই। এটা মূলত হয় ভুল তথ্য প্রদান করার কারণে।
আপনি যদি এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে একাউন্ট তৈরি করার সময় কোন ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, কিংবা এখন তৈরি হওয়ার পর বারবার ভুল পাসওয়ার্ড প্রদান করেন, সে ক্ষেত্রে এনআইডি কার্ডের অ্যাকাউন্ট লক হয়ে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে কিছুদিন অপেক্ষা করার পর পুনরায় এটি আনলক হয়ে যায়। তখন আপনি তথ্য পুনরায় সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা পাসওয়ার্ড রিসেট করতে পারবেন।
NID আবেদনের কতদিন পর এটি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যায়?
NID কার্ড আবেদন করার সাথে সাথেই এটি অনলাইনে ডাটাবেজে সেভ করা হয় না, যার কারণে আপনি চাইলেও আবেদন করার পরপরই অনলাইন কম্পিউটার ডাউনলোড করতে পারবেন না।
এজন্য আপনাকে এক সপ্তাহ কিংবা ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, এরপর আপনি অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
আমার এনআইডি কার্ড হারিয়ে গিয়েছে, এক্ষেত্রে আমার করনীয়?
আপনি যদি মূল স্মার্ট এনআইডি কার্ডটি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে আপনাকে এটি সুরক্ষার জন্য আবেদন করতে হবে, যেটি আপনি অনলাইনে কিংবা সরাসরি নির্বাচন অফিস থেকেও করতে পারবেন।
এনআইডি কার্ড এসব করার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা সার্ভিস ফি প্রদান করতে হয়। তবে এনআইডি কার্ডের নাম্বারটি মনে থাকলে আপনি উপরে দেওয়া পদ্ধতি অনুযায়ী অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে আপাতত আইডি কার্ড সংক্রান্ত কাজগুলো করতে পারবেন।
শেষ কথা
বাংলাদেশের মধ্যে কিংবা বাংলাদেশের বাইরে থাকা প্রিয় এনআইডি কার্ড প্রত্যাশী বন্ধু, এটি হচ্ছে অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার সবচেয়ে কার্যকারী পদ্ধতি।
ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে এই তথ্যগুলো ছাড়াও, যদি আপনার কোন তথ্যের প্রয়োজন হয়, কিংবা ডাউনলোড করার কোন পর্যায়ে আপনি আটকে যান, অথবা যদি কিছু না বোঝেন তাহলে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে আপনার সেই সমস্যাটি উল্লেখ করতে পারেন। আমি আপনাকে সাহায্য করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।

3 Comments