অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম ও ফি ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
দেশে অথবা বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিক মৃত্যুবরণ করলে সরকার কর্তৃক উক্ত মৃত ব্যক্তির জন্য যেসব বরাদ্দ ছিল সেগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে অথবা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে, অবশ্যই মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদপত্রের প্রয়োজন হয়ে থাকে।
এজন্য আপনি দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুন না কেন, অনলাইনে মৃত ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য ২৫ থেকে ৫০ টাকা ফি প্রয়োজন হবে। নিচে মৃত্যু নিবন্ধন সম্পর্কিত সকল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
মৃত্যু নিবন্ধন করতে কী কী লাগে?
মৃত্যু নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই কিছু ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্ট লাগবে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
- মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ
- মৃত্যুর জায়গা প্রমাণের ডকুমেন্টস
- মৃত্যুবরণ করার ঠিকানা এবং মৃত্যুর সময় বসবাসের ঠিকানা
- মৃত ব্যক্তির স্বামী/স্ত্রী’র জন্ম নিবন্ধন নাম্বার অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার
অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন করার নিয়ম
এবারে চলুন অনলাইনে কিভাবে মৃত্যু নিবন্ধন করা যায় সেটি ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক। এজন্য প্রথমেই উপরে উল্লেখিত ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমেই ভিজিট করুন Death Registration ওয়েবসাইটে।
- এখানে প্রবেশ করলে প্রথমে মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এবং জন্ম তারিখ প্রদান করতে বলবে। সুতরাং এই তথ্যগুলো প্রদান করে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন।

- অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করার পর মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ চলে আসবে। এখানে ডান পাশে নির্বাচন করুন অপশনে ক্লিক করতে হবে।
- এর পরবর্তী পেজে মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যালয়ের ঠিকানা প্রদান করতে হবে। ঠিকানা হিসেবে এখানে দেশ. বিভাগ, জেলা এবং অফিস সিলেক্ট করে পরবর্তী বাটনে প্রেস করতে হবে।

- পরবর্তী পর্যায়ে মৃত ব্যক্তির বিবরণ প্রদান করতে হবে যেমন মৃত্যুর তারিখ মৃত্যুর কারণ মৃত ব্যক্তির স্বামী/ স্ত্রীর তথ্যাবলী জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার এবং নাম এই তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রদান করে পরবর্তী বাটনে প্রেস করতে হবে

- তথ্যগুলো দেওয়ার পর পরবর্তী ধাপে মৃত্যুর ঠিকানা এবং মৃত্যুর সময় বসবাসের ঠিকানা প্রদান করতে হবে। সুতরাং ঠিকানা প্রদানের এই পর্যায়টি সম্পূর্ণভাবে কমপ্লিট করার পর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

- এরপর পরের ধাপে আরও কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে- যেমন মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য কোন ব্যক্তি আবেদন করছেন তার পরিচয় এবং ঠিকানা প্রদান করতে হবে।
- পাশাপাশি মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি তথ্য প্রদান করছেন সেই তথ্য প্রদানকারীর তথ্য নিচে প্রদান করতে হবে। এই তথ্যগুলো দেওয়া হয়ে গেলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

- সমস্ত তথ্য গুলো দেওয়া হয়ে গেলে পরবর্তী পেজে কিছু ডকুমেন্টস আপলোড করা লাগতে পারে এবং ফি প্রদান করা হতে পারে। তবে চাইলে এসব ডকুমেন্টস এবং ফি আপনি সরাসরি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে জমা দিতে পারবেন।
- সুতরাং আবেদনটি সাবমিট হয়ে গেলে আবেদনপত্রের একটি কপি প্রিন্ট করে নিন। প্রিন্ট করা সম্ভব না হলে পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিয়ে এটি পরবর্তীতে কোথাও থেকে প্রিন্ট করে নিতে হবে।
আরও পড়তে পারেন- অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম
অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করার পর করণীয়
মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন অনলাইনে করার পর আপনার কাজ হবে আবেদনের একটি কপি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সহ সেটি নিকটস্থ কার্যালয়ে গিয়ে জমা দেওয়া।
এক্ষেত্রে তারা আপনার আবেদনটি গ্রহণ করবে এবং এটি এপ্রুভ হয়ে গেলে তখন আপনাকে অরিজিনাল ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান করবে।
বাংলাদেশে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের ফি
বাংলাদেশে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের ফি জন্ম নিবন্ধনের মতোই অত্যন্ত সীমিত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের ফি-এর হার নিচে দেওয়া হলো:
| সময়সীমা | ফি-এর পরিমাণ |
| মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন করলে | সম্পূর্ণ ফ্রি (বিনামূল্যে) |
| মৃত্যুর ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত | ২৫ টাকা |
| মৃত্যুর ৫ বছর পর আবেদন করলে (বিলম্বে নিবন্ধন) | ৫০ টাকা |
মৃত্যু নিবন্ধন সার্টিফিকেট পেতে কত সময় লাগে?
মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করার পর সেটি অ্যাপ্রুভালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আবেদন করার পর সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুর সনদ পাওয়া যায়। তবে এটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে।
আবেদনটি এপ্রুভ হয়ে গেলে আপনি অনলাইন থেকে মৃত্যু সনদ ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। অনলাইনে ডাউনলোড করার জন্য ভিজিট করুন Death Registration Check ওয়েবসাইটে। এখানে মৃত্যু তারিখ এবং মৃত্যু নিবন্ধন নাম্বার প্রদান করে মৃত্যুর সনদ ডাউনলোড করা যাবে
মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন যদি ডিজিটাল না থাকে তবে কি মৃত্যু নিবন্ধন করা যাবে?
না, বর্তমানে অনলাইন সিস্টেমে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করতে হলে মৃত ব্যক্তির অবশ্যই ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন (১৭ ডিজিটের নম্বর) থাকতে হবে। যদি না থাকে, তবে আগে মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনটি ডিজিটাল করতে হবে অথবা বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের পরামর্শ নিতে হবে।
বিদেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেলে কীভাবে নিবন্ধন করবেন?
বিদেশে কোনো নাগরিক মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট অফিসে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের পর প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেই মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করা সম্ভব।
মৃত্যু সনদ সংশোধনের প্রয়োজন হলে করণীয় কী?
যদি মৃত্যু সনদে কোনো ভুল থাকে, তবে bdris.gov.bd পোর্টালে গিয়ে ‘মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধন’ অপশনে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে ৫০ টাকা ফি এবং সঠিক তথ্যের প্রমাণপত্রসহ আবেদনটি স্থানীয় নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর কে আবেদন করতে পারবেন?
মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনি বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের সময় আবেদনকারীর সাথে মৃত ব্যক্তির সম্পর্ক সিলেক্ট করতে হবে এবং আবেদনকারীর এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন তথ্য প্রদান করতে হবে।
মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য ‘মৃত্যুর কারণ’ হিসেবে কী সনদ প্রয়োজন?
হাসপাতালে মারা গেলে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ বা চিকিৎসকের প্যাডে লেখা মৃত্যুর কারণ প্রয়োজন হয়। আর বাড়িতে মারা গেলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, কাউন্সিলর বা চৌকিদার কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র বা দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রসিদ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
অনলাইন থেকে কি ডিজিটাল মৃত্যু সনদ সরাসরি ডাউনলোড করা যায়?
আবেদন অ্যাপ্রুভ হওয়ার পর আপনি অনলাইন থেকে আবেদনের অবস্থা চেক করতে পারবেন। তবে অফিশিয়াল বা মূল ডিজিটাল সনদটি পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে হার্ডকপি সংগ্রহ করতে হবে।
উপসংহার
মৃত্যু নিবন্ধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়া, যা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা, সম্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং আইনগত সুবিধা পেতে সহায়তা করে। বর্তমানে অনলাইনে সহজেই আবেদন করা যায়, ফলে দেশে বা বিদেশে অবস্থান করেও দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে ফি কম বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়। তাই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত রেখে সঠিক তথ্য প্রদান করে দ্রুত মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা না হয় এবং পরিবার প্রাপ্য সুবিধা পেতে পারে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
