সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে সহজেই আপনার জন্য উপযুক্ত কার্ড বেছে নেওয়া সম্ভব। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা ফ্রিল্যান্সার- সবার জন্যই সিটি ব্যাংকের নির্দিষ্ট আয়, বয়স, ক্রেডিট হিস্ট্রি ও ডকুমেন্টস সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে।
এই যোগ্যতাগুলো পূরণ করলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই আবেদন করার আগে সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সীমাবদ্ধতা জানা অত্যন্ত জরুরি।
সঠিক তথ্য জানলে সময় বাঁচে, ভুল এড়ানো যায় এবং আর্থিক পরিকল্পনা আরও কার্যকর হয়। বিশেষ করে নতুন আবেদনকারীদের জন্য এটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব নির্দেশনা প্রদান করে এবং ঝুঁকি কমায় কার্যকরভাবে।
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার সাধারণ যোগ্যতা
সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। এই যোগ্যতাগুলো সাধারণত আপনার পেশা এবং আয়ের ওপর নির্ভর করে।
১. বয়স সীমা
আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ বছর থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছর হলেও চলে।
২. পেশাগত যোগ্যতা ও ন্যূনতম আয়
সিটি ব্যাংক বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আয়ের সীমা নির্ধারণ করেছে:
-
চাকরিজীবী (Salaried Person): আপনার মাসিক ন্যূনতম আয় হতে হবে ৩০,০০০ টাকা। তবে উচ্চতর ভেরিয়েন্টের কার্ড (যেমন- প্লাটিনাম) পেতে হলে আয়ের সীমা আরও বেশি হতে পারে।
-
ব্যবসায়ী (Business Person): ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় এবং বার্ষিক লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে কার্ড দেওয়া হয়। সাধারণত বার্ষিক আয় অন্তত ৫-৬ লাখ টাকা হওয়া প্রয়োজন।
-
পেশাজীবী (Doctors/Engineers/Consultants): এদের ক্ষেত্রেও মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে হয়।
৩. ক্রেডিট স্কোর (CIB Report)
যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো ভালো ক্রেডিট স্কোর। আপনার যদি আগে কোনো লোন বা অন্য ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থাকে এবং সেটির পেমেন্ট রেকর্ড ভালো হয়, তবে কার্ড পাওয়া সহজ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের CIB (Credit Information Bureau) রিপোর্টে আপনার নাম ডিফল্টার হিসেবে থাকা যাবে না।
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)
আবেদন করার সময় আপনাকে নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে:
আবেদনকারীর ধরনপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রসাধারণ (সবার জন্য)
১. ২ কপি ল্যাব প্রিন্ট ছবি
২. এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি
৩. ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের কপি
৪. পাসপোর্টের কপি (ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের জন্য বাধ্যতামূলক)
চাকরিজীবী
১. গত ৩ মাসের পে-স্লিপ বা স্যালারি সার্টিফিকেট
২. গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
৩. অফিস আইডি কার্ডের কপি এবং ভিজিটিং কার্ড
ব্যবসায়ী
১. আপডেট ট্রেড লাইসেন্স কপি
২. পার্টনারশিপ ডিড (যদি থাকে)
৩. গত ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
৪. ভিজিটিং কার্ড
সিটি ব্যাংকের জনপ্রিয় কিছু ক্রেডিট কার্ড
আপনার লাইফস্টাইল অনুযায়ী আপনি নিচের যেকোনো একটি কার্ড বেছে নিতে পারেন:
-
American Express Gold Card: যারা ভ্রমণ এবং শপিং করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য সেরা।
-
City Bank Amex Platinum Card: উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের জন্য, যাতে রয়েছে আনলিমিটেড লাউঞ্জ এক্সেস।
-
The CityMaxx Card: যারা প্রতিদিনের কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক চান।
-
Visa Classic/Platinum: সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য।
আবেদন করার প্রক্রিয়া- সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের জন্য আপনি দুইভাবে আবেদন করতে পারেন:
-
অনলাইন আবেদন: সিটি ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা CityTouch অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করা যায়। আপনার তথ্য দিলে ব্যাংকের প্রতিনিধি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন।
-
অফলাইন আবেদন: আপনার নিকটস্থ সিটি ব্যাংক শাখায় গিয়ে সরাসরি ক্রেডিট কার্ড বিভাগে কথা বলে ফর্ম পূরণ করতে পারেন।
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের চার্জ ও ফি
সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চার্জ ও ফি কার্ডের ধরন এবং গ্রাহকের ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
নিচে ২০২৬ সালের আপডেট এবং সাধারণ ফি কাঠামোর একটি বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
| ফি/চার্জের ধরন | সাধারণ হার/পরিমাণ (ভ্যাট ব্যতীত) | মন্তব্য |
| বার্ষিক ফি (Annual Fee) | ১,৫০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত | কার্ডের ধরন (Green, Gold, Platinum) অনুযায়ী ভিন্ন হয়। |
| ফি মওকুফ (Fee Waiver) | ১৮টি ট্রানজ্যাকশন (বছরে) | বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক লেনদেন করলে পরবর্তী বছরের ফি ১০০% মওকুফ হয়। |
| সুদের হার (Interest Rate) | ২০% (বার্ষিক) | বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সীমা। |
| বিলম্বে পরিশোধ ফি (Late Payment Fee) | ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা | নির্ধারিত তারিখের পর বিল জমা দিলে এই চার্জ প্রযোজ্য। |
| নগদ উত্তোলন ফি (Cash Advance Fee) | উত্তোলিত অর্থের ২% বা ২০০ টাকা | যেটি বেশি হয় (এটি এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে)। |
| কার্ড প্রতিস্থাপন ফি (Card Replacement) | ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা | কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে নতুন কার্ডের জন্য। |
| চেক বই ফি (Cheque Book Fee) | ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা | প্রথম চেক বই অনেক সময় ফ্রি থাকে, পরবর্তী প্রতি বইয়ের জন্য। |
| ওভার লিমিট ফি (Over Limit Fee) | ৫০০ টাকা | যদি ক্রেডিট লিমিটের চেয়ে বেশি খরচ করা হয়। |
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড কেন নেবেন?
সিটি ব্যাংক মূলত তাদের American Express (Amex) কার্ডের জন্য বাংলাদেশে সমাদৃত। তবে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড গ্রাহকদের জন্যও তাদের রয়েছে আকর্ষণীয় সব ডিল।
কেন এই কার্ডটি আপনার মানিব্যাগে থাকা উচিত, তার মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
বাই ওয়ান গেট ওয়ান (BOGO) অফার:
সিটি ব্যাংক অ্যামেক্স কার্ডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো খাবার। দেশের শতশত নামী রেস্টুরেন্টে (যেমন: ফাইভ স্টার হোটেল বা চেইন রেস্টুরেন্ট) বুফে বা মেইন কোর্সে সারা বছর ‘একজন কিনলে একজন ফ্রি’ অফার পাওয়া যায়।
এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ এক্সেস:
আপনি যদি ভ্রমণপ্রিয় হন, তবে এই কার্ড আপনার জন্য আশীর্বাদ। সিটি ব্যাংকের কার্ড থাকলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের City Bank American Express Lounge-এ বিনামূল্যে খাবার এবং বিশ্রামের সুবিধা পাওয়া যায়। কার্ডের ধরন অনুযায়ী বিদেশেও ‘প্রায়োরিটি পাস’-এর মাধ্যমে লাউঞ্জ সুবিধা মেলে।
সিটিম্যাক্স (CityMaxx) ক্যাশব্যাক:
সিটিম্যাক্স কার্ডের মাধ্যমে গ্রোসারি শপিং (যেমন: আগোরা, স্বপ্ন) বা যেকোনো কেনাকাটায় সরাসরি ১% থেকে ২% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, যা সরাসরি আপনার কার্ডের ব্যালেন্সে জমা হয়।
মেম্বারশিপ রিওয়ার্ড পয়েন্টস:
প্রতিবার কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি ‘রিওয়ার্ড পয়েন্ট’ অর্জন করবেন। এই পয়েন্টগুলো জমিয়ে পরবর্তী সময়ে বার্ষিক ফি মওকুফ করা যায় অথবা নামী ব্র্যান্ডের ভাউচার কেনা যায়।
ফ্লেক্সিবল পেমেন্ট বা EMI:
বড় কোনো কেনাকাটা (যেমন: ল্যাপটপ, মোবাইল বা এসি) করলে ০% সুদে ৩ থেকে ৩৬ মাসের সহজ কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সকল বড় ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার ব্র্যান্ডে সিটি ব্যাংকের EMI সুবিধা পাওয়া যায়।
কন্টাক্টলেস পেমেন্ট:
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সিটি ব্যাংক কন্টাক্টলেস কার্ড প্রদান করে, যার ফলে কার্ড মেশিনে না ঢুকিয়েই শুধু স্পর্শ (Tap) করে দ্রুত পেমেন্ট করা সম্ভব।
লাইফস্টাইল ও শপিং ডিসকাউন্ট:
ঈদ, পূজা বা বিশেষ উৎসবগুলোতে নামী ফ্যাশন হাউসগুলোতে কার্ড গ্রাহকদের জন্য ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বিশেষ ছাড় থাকে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
-
সঠিক তথ্য দিন: আবেদন ফর্মে আপনার পেশা এবং আয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করুন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
-
রেফারেন্স: আবেদনের সময় পরিচিত কারো রেফারেন্স দেওয়া ভালো, যার ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড আছে।
-
স্থায়ী ঠিকানা: আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার ভেরিফিকেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করুন।
উপসংহার
সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড বর্তমান সময়ে একটি আস্থার নাম। সঠিক যোগ্যতা এবং নথিপত্র থাকলে আপনি খুব সহজেই এই কার্ডটি পেতে পারেন। কার্ড পাওয়ার পর সেটি দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করা এবং সময়মতো বিল পরিশোধ করা আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
