বিকাশ থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার নিয়ম ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
বর্তমানে ঘরে বসেই সহজে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের অন্যতম সুবিধাজনক উপায় হলো বিকাশ। অনেকেই জানতে চান বিকাশ থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার নিয়ম কী এবং কীভাবে কয়েক মিনিটে নিরাপদে রিচার্জ সম্পন্ন করা যায়।
স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে কিংবা ডায়াল কোডের মাধ্যমে খুব দ্রুত প্রিপেইড মিটারে টাকা যোগ করা সম্ভব। এতে ব্যাংক বা বিদ্যুৎ অফিসে যাওয়ার ঝামেলা নেই। সঠিক বিলার নির্বাচন, মিটার নম্বর ইনপুট এবং পিন নিশ্চিত করলেই রিচার্জ সম্পন্ন হয়।
এই লেখায় ধাপে ধাপে জানবো বিকাশ থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার নিয়ম ২০২৬ সম্পর্কে। আপনি যদি ঘরে বসে ঝামেলাহীনভাবে মিটার রিচার্জ করতে চান, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য।
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার ধাপসমূহ
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো:
১. বিকাশ অ্যাপে লগ-ইন করুন
প্রথমে আপনার স্মার্টফোন থেকে বিকাশ অ্যাপটি ওপেন করুন এবং পিন নম্বর দিয়ে লগ-ইন করুন।
২. ‘পে বিল’ অপশনটি বেছে নিন
হোম স্ক্রিনে থাকা বিভিন্ন আইকন থেকে ‘Pay Bill’ বা ‘পে বিল’ অপশনে ট্যাপ করুন।
৩. বিলের ধরন নির্বাচন করুন
আপনি যদি বিদ্যুৎ বিল দিতে চান তবে ‘Electricity’ এবং গ্যাস বিলের জন্য ‘Gas’ সিলেক্ট করুন। এখানে আমরা বিদ্যুৎ মিটারের উদাহরণ দিচ্ছি।
৪. বিলার (Biller) নির্বাচন করুন
বাংলাদেশে অনেকগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান আছে। আপনার মিটারটি কোন প্রতিষ্ঠানের তা নিশ্চিত হয়ে সেটি সিলেক্ট করুন। যেমন:
-
Palli Bidyut (Prepaid)
-
DESCO (Prepaid)
-
DPDC (Prepaid)
-
BPDB (Prepaid)
-
NESCO (Prepaid)
৫. মিটার ও কন্টাক্ট নম্বর দিন
আপনার মিটারের নির্দিষ্ট Customer ID বা Meter Number দিন। এরপর আপনার একটি সচল Contact Number (মোবাইল নম্বর) দিন যেখানে রিচার্জের পর টোকেন নম্বর পাঠানো হবে।
৬. রিচার্জের পরিমাণ নির্ধারণ করুন
আপনি কত টাকা রিচার্জ করতে চান সেই পরিমাণটি লিখুন (যেমন: ৫০০ বা ১০০০ টাকা)। মনে রাখবেন, বিপিডিবি বা পল্লী বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন রিচার্জ সাধারণত ১০০ টাকা।
৭. পিন নম্বর দিয়ে সম্পন্ন করুন
সব তথ্য ঠিক থাকলে আপনার বিকাশ পিন (PIN) নম্বরটি দিন এবং স্ক্রিনের নিচের অংশে ট্যাপ করে ধরে রাখুন।
৮. টোকেন সংগ্রহ ও মিটারে প্রবেশ
পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি কনফার্মেশন পাবেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসএমএস-এর মাধ্যমে একটি ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর আপনার ফোনে চলে আসবে। এই নম্বরটি আপনার মিটারের কি-প্যাডে টাইপ করে ‘Enter’ বা নীল/সবুজ বাটন চাপলেই ব্যালেন্স যোগ হয়ে যাবে।
বাটন ফোন বা USSD কোড (*247#) দিয়ে বিকাশ থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ
যাদের কাছে স্মার্টফোন নেই বা ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তারা বাটন ফোন দিয়েও খুব সহজে রিচার্জ করতে পারেন।
-
আপনার ফোন থেকে *247# ডায়াল করুন।
-
মেনু থেকে Pay Bill (সাধারণত ৬ নম্বর অপশন) সিলেক্ট করুন।
-
বিদ্যুৎ বিলের জন্য Electricity সিলেক্ট করুন।
-
আপনার বিলার (যেমন: Palli Bidyut Prepaid) সিলেক্ট করুন।
-
Input Meter Number অপশনটি বেছে নিন এবং মিটার নম্বরটি দিন।
-
আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন।
-
টাকার পরিমাণ লিখুন।
-
সবশেষে আপনার বিকাশ পিন দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করুন।
বিকাশ থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ কেন করবেন?
আগে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল দিতে আমাদের ব্যাংকে বা নির্দিষ্ট বিলিং অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো।
কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে এখন আপনি পাচ্ছেন:
-
২৪/৭ সেবা: দিন বা রাত যেকোনো সময় রিচার্জ করার সুবিধা।
-
তাৎক্ষণিক টোকেন: পেমেন্ট করার সাথে সাথেই ডিজিটাল রিসিট এবং মিটার টোকেন পাওয়া যায়।
-
চার্জ ফ্রি সুবিধা: প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিল (সাধারণত ২টি) ফ্রিতে দেওয়ার সুযোগ।
-
বিল সেভ অপশন: একবার মিটার নম্বর সেভ করে রাখলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা নেই।
২০২৬ সালের চার্জ ও ট্যারিফ চার্ট
বিকাশ থেকে বিল প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী:
| বিলার নাম | চার্জের পরিমাণ | বিশেষ সুবিধা |
| পল্লী বিদ্যুৎ (প্রিপেইড) | স্ল্যাব ভিত্তিক (৫-২৫ টাকা) | মাসে প্রথম ২টি বিল ফ্রি |
| ডিপিডিসি (DPDC) | ১% (সর্বোচ্চ ৩০ টাকা) | অ্যাপ ইউজারদের জন্য ক্যাশব্যাক অফার |
| ডেসকো (DESCO) | নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য | তাৎক্ষণিক ডিজিটাল রিসিট |
| তিতাস গ্যাস (প্রিপেইড) | চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে | স্মার্ট কার্ড রিচার্জ সুবিধা |
দ্রষ্টব্য: বিকাশের প্রমোশনাল অফার অনুযায়ী অনেক সময় ৩টি বা ৫টি বিল পর্যন্ত ফ্রিতে দেওয়া যায়। রিচার্জ করার আগে অ্যাপের ‘অফার’ সেকশনটি চেক করে নিন।
মিটার রিচার্জের পর টোকেন না পেলে কী করবেন?
কখনও কখনও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এসএমএস আসতে দেরি হতে পারে। টোকেন না পেলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই:
-
বিকাশ অ্যাপ চেক করুন: অ্যাপের ‘পে বিল’ সেকশনে গিয়ে ‘Saved Bill’ বা ‘Receipt & Token’ অপশনে গেলে আপনার সর্বশেষ লেনদেনের টোকেন নম্বরটি দেখতে পাবেন।
-
এসএমএস রিকোয়েস্ট: আপনার মিটার নম্বর লিখে 04445616247 নম্বরে মেসেজ করলে ফিরতি মেসেজে টোকেন পাওয়া যায়।
-
হেল্পলাইন: কোনো সমাধান না হলে বিকাশের হেল্পলাইন 16247-এ কল করুন।
কিছু জরুরি সতর্কতা
সঠিক মিটার নম্বর
রিচার্জ করার আগে মিটার নম্বরটি বারবার মিলিয়ে নিন। ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে তা ফেরত পাওয়া বেশ জটিল।
জরুরি ব্যালেন্স
মিটারে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই রিচার্জ করা ভালো। তবে টাকা শেষ হয়ে গেলে মিটারের ‘Emergency’ বাটন চেপে সাময়িক বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়।
পিন শেয়ার করবেন না
রিচার্জ করার সময় বা অন্য কোনো অজুহাতে কেউ আপনার বিকাশ পিন চাইলে দেবেন না। বিকাশ কর্তৃপক্ষ কখনোই পিন নম্বর জানতে চায় না।
উপসংহার
প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের জীবন এখন অনেক সহজ। ২০২৬ সালে এসে বিকাশ তাদের সেবাকে আরও দ্রুতগামী করেছে। আশা করি এই পোস্টটি পড়ার পর বিকাশ থেকে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার নিয়ম নিয়ে আপনার আর কোনো দ্বিধা থাকবে না।
এখনই আপনার মিটার নম্বরটি বিকাশ অ্যাপে সেভ করে রাখুন এবং প্রতি মাসের বিল পরিশোধ করুন নিশ্চিন্তে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
