অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম ২০২৬

Asif Mahmud

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।

Asif Mahmud

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।

দেশে হোক কিংবা প্রবাসে, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ১৮ বছর হয়েছে, তারা অনলাইনে খুব সহজেই এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এমনকি স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে ১৬ বছরেই এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। আগের মত নির্বাচন অফিসে গিয়ে এখন আর ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হয় না।

আপনার যদি একটি স্মার্টফোন থাকে, তাহলেই ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন ঘরে বসেই। এই বিষয়টি আমি এখানে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছি।

এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করতে   কী কী লাগে?

অনলাইনে এনআইডি কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু তথ্য এবং ডকুমেন্টস আপনাকে প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন:

  • আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • আপনার পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের তথ্য
  • আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
  • অষ্টম শ্রেণি কিংবা এসএসসি সার্টিফিকেটের ফটোকপি

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

তাহলে চলুন, কোন কথা না বাড়িয়ে এখন আমরা ধাপে ধাপে দেখে নেই কিভাবে অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করা যায়। এজন্য নিচে দেখানো প্রতিটি ধাপ ভালোভাবে অনুসরণ করুন।

  • প্রথমেই ভিজিট করুন বাংলাদেশ NID Application System ওয়েবসাইটে।
  • এখানে আপনার জন্য দুইটি অপশন শো করবে। এটি হচ্ছে রেজিস্টার করুন এবং অন্যটি হচ্ছে নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন।

ভোটার আইডি কার্ড আবেদন করার নিয়ম

  • আপনি যেহেতু এনআইডি কার্ড নতুন রেজিস্ট্রেশন করতে যাচ্ছেন, এজন্য নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন এই অপশনটিতে ক্লিক করুন।
  • পরবর্তী ধাপে এখানে তথ্য দেওয়ার কিছু বক্স চলে আসবে।

এনআইডি কার্ডের আবেদন করার নিয়ম

  • এখানে প্রথমেই আপনার পুরো নাম ইংরেজিতে লিখতে হবে। এরপর আপনার জন্ম সনদ অনুযায়ী জন্ম তারিখ প্রদান করতে হবে।
  • এরপর নিচে একটি ঝাপসা Captcha দেখতে পাবেন, সেটি উত্তর বক্সে লিখে দিন। এরপর পরবর্তী বাটনে প্রেস করুন।
  • এর পরবর্তী ধাপে, একাউন্টে নিবন্ধনের জন্য আপনাকে একটি ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড সেট আপ করতে হবে।

How to Apply for NID Card in Bangladesh

  • সুতরাং এখানে একটি ইউজারনেম তৈরি করুন এবং একটি পাসওয়ার্ড প্রদান করুন। যে পাসওয়ার্ডটি তৈরি করেছেন, সেটি পুনরায় পাসওয়ার্ড লিখুন বক্সে প্রদান করুন।
  • এরপর বহাল বাটনে ক্লিক করুন। যদি ইউজারনেম দেওয়ার পর এটি সমর্থন না করে, তাহলে বুঝতে হবে যে এই ইউজারনেমটি আগেই কেউ নিয়ে নিয়েছে। এজন্য ইউজারনেমের সাথে আরও কিছু যোগ করে একটি নতুন ইউজারনেম তৈরি করতে হবে।
  • অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করা হয়ে গেলে, আপনাকে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
  • এই ধাপে এসে দেখবেন আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে এবং প্রোফাইল নামে একটি বাটন রয়েছে। এখানে ক্লিক করুন।

Bangladesh NID Registration Online

  • এরপর প্রোফাইল এডিট করার জন্য একটি এডিট বাটন থাকবে। এই এডিট বক্সে ক্লিক করে আপনার এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে।

ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন

  • সুতরাং এখানে থাকা প্রত্যেকটি তথ্য আপনার জন্ম সনদ এবং পিতা-মাতার আইডি কার্ড অনুযায়ী পূরণ করুন।
  • সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে, তথ্যগুলো ভালোভাবে একবার চেক করে নিন। যদি কোন ভুল থাকে, তাহলে ইনস্ট্যান্ট সংশোধন করে নিন। আর যদি সমস্ত তথ্য ঠিক থাকে, তাহলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর এখানে দেখাবে কাগজপত্র আপলোড করার প্রয়োজন নেই। আপনার যে সমস্ত কাগজপত্র লাগবে, সেগুলো পরবর্তীতে নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে। এজন্য এখানে থাকা পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার তথ্যগুলো যাচাই করার জন্য আরও একবার সুযোগ দেওয়া হবে। এখানে আপনার সমস্ত দেওয়া তথ্য ঠিক আছে কিনা, আরো একবার যাচাই করে নিন।
  • সমস্ত তথ্য ঠিক থাকলে এখানে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে অনলাইনে আপনার এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের আবেদনটি সাবমিট হয়ে যাবে।
  • এখানে দেখবেন ডাউনলোড নামে একটি বাটন রয়েছে। এই ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে আপনার এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের আবেদনপত্রটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করে নিতে হবে এবং এটি প্রিন্ট করে আপনাকে নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

অনলাইনে এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার পর করণীয়

অনলাইনে আপনার এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সম্পন্ন হয়ে গেলে, এখন এই আবেদনপত্রটি আপনাকে প্রিন্ট করতে হবে।

প্রিন্ট করে এর সাথে কিছু কাগজপত্র সংযোজন করে, সেগুলো আপনার উপজেলার নির্বাচন অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্রের সাথে যে সকল কাগজপত্র লাগবে সেগুলো হচ্ছে:

  • আপনার যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট। যদি সার্টিফিকেট না পেয়ে থাকেন, তাহলে একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র দিলেও হয়ে যাবে।
  • আপনার জন্ম সনদের ফটোকপি
  • আপনার পিতামাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি
  • ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা কাউন্সিলরের নাগরিকত্ব সনদপত্র
  • আবেদনপত্রের 34 নম্বর শর্ত অনুযায়ী, আপনার এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা কাউন্সিলরের এনআইডি নম্বর দিতে হবে এবং তার স্বাক্ষর নিতে হবে। অথবা দায়িত্বে থাকা যেকোন একজন ব্যক্তির এনআইডি নম্বর এবং তার স্বাক্ষর নিলেও চলবে।

এরপর নির্বাচন অফিস কর্তৃক আপনার এই আবেদনপত্র এবং কাগজপত্রগুলো জমা নেয়া হবে। এরপর তারা আপনাকে একটি তারিখ প্রদান করবে।

সেই তারিখে এসে আপনার বায়োমেট্রিক্স তথ্যগুলো যেমন হাতের আঙ্গুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান এবং স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।

ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করতে কত টাকা লাগে?

হ্যাঁ, এই প্রশ্নটি অনেকেই করে থাকেন যে বাংলাদেশের ভোটার আইডি কার্ড নতুন রেজিস্ট্রেশন করতে কত টাকা ফি নেওয়া হয়।

আসলে কিছুদিন আগেও নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন করতে তাদেরকে ফি দিতে হতো।

কিন্তু বর্তমানে ভোটার আইডি কার্ড অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সুবিধা থাকায় কোন প্রকার ফি দিতে হয় না। আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে ভোটার আইডি কার্ড অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ড পেতে কত সময় লাগবে?

অনলাইনে এনআইডি কার্ড আবেদনের পর, যখন আপনি আবেদন কপিসহ অন্যান্য সংযুক্ত ডকুমেন্টস নির্বাচন অফিসে জমা দিবেন, তখন তাদের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আপনাকে বায়োমেট্রিকস তথ্য প্রদান করতে হবে।

বায়োমেট্রিক্স তথ্য প্রদান করা হয়ে গেলেই আপনার এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপিটি অনলাইনে পাওয়া যাবে। আপনি চাইলে এটি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য ভিজিট করুন এনআইডি কার্ড ডাউনলোড অনলাইন পেইজে।

ভোটার আইডি কার্ডের স্মার্ট কার্ডটি হাতে পেতে তিন মাস থেকে ছয় মাস, এমনকি এক বছরও সময় লাগতে পারে। তবে এনআইডি কার্ড জরুরি হয়ে থাকলে, আপনি আপাতত অনলাইনে কপিটি দিয়ে কাজ চালাতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানে আমি এড করে দিয়েছি, যেগুলো আপনাকে এ সম্পর্কে জানতে এবং বিভিন্ন প্রকার সংশয় দূর করতে সাহায্য করবে।

অনলাইনে এনআইডি রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার পর এটি কত দিনের মধ্যে নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়?

অনলাইনে এনআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার পর এটি আপনাকে কত দিনের মধ্যে নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে তার কোন ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই। আপনি আপনার সুবিধামতো জমা দিতে পারবেন। তবে বেশি দেরি না করাই ভালো।

এনআইডি কার্ড এক মাসের মধ্যে পাওয়ার কোন উপায় আছে কি?

এনআইডি স্মার্ট কার্ড সাধারণত বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কেন্দ্র হতে সরবরাহ করা হয়। এজন্য এক মাসের মধ্যে পাওয়ার উপায় সাধারণত নেই। তবে যারা এনআইডি রিইস্যু করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত পাওয়া যায়।

শেষ কথা

তো প্রিয় বন্ধু, এটি হচ্ছে বাংলাদেশ এনআইডি কার্ড নতুন রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার সম্পূর্ণ নিয়ম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সুবিধা যুক্ত হওয়ার কারণে এটি আপনি সহজেই করতে পারেন। উপরে উল্লেখ করা ধাপগুলো অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে সেটা কমেন্ট বক্সে যুক্ত করতে পারেন। আমি আপনার উত্তর দেওয়ার বা আপনাকে গাইড প্রদান করার জন্য সব সময় রেডি। ধন্যবাদ আপনাকে।

Asif Mahmud

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।

Similar Posts

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *