ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন, খরচ, ডকুমেন্টস, মেয়াদ ও নবায়ন ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
১৮ বছরের উপরে কিংবা ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক, সহজে কেউ যেকোনো সময় বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।
শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়, যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তারাও বিদেশ থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত বর্তমানে ই-পাসপোর্ট, যেগুলো ৫ বছর কিংবা ১০ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে।
নিচে ই-পাসপোর্ট কী, এই পাসপোর্ট পেতে হলে কী কী ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়, কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন, এর খরচ কত এবং এটি পেতে কত সময় লাগবে, সেই সাথে এই পাসপোর্টের ভ্যালিডিটি এবং রিনিউয়াল সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছি, যা আপনার ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে জানতে এবং এটি পেতে সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারবে।
ই-পাসপোর্ট কী?
পাসপোর্ট এবং ই-পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের মূলত কয়েক প্রকার পাসপোর্ট প্রচলিত রয়েছে। সবগুলো পাসপোর্ট এখন ই-পাসপোর্টে কনভার্ট করা হচ্ছে।
ই-পাসপোর্ট বলতে একটি আধুনিক, ডিজিটাল এবং নিরাপদ পাসপোর্টকে বোঝানো হয়, যার মধ্যে একটি ইলেকট্রনিক চিপ সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। এতে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর, ছবি, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিস স্ক্যান সংরক্ষিত থাকে।
বাংলাদেশে ২০২০ সাল থেকে এই পাসপোর্ট চালু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত।
ই-পাসপোর্ট কেন দরকার?
আমরা অনেকেই মনে করে থাকি, শুধুমাত্র বিদেশ ভ্রমণের জন্যই পাসপোর্ট দরকার হয়। তবে বিষয়টা এমন না।
বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে বাংলাদেশে থাকার ক্ষেত্রেও পাসপোর্টের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে একটি পাসপোর্ট কেন দরকার হয়, তার কিছু ধারণা নিচে উল্লেখ করেছি:
- বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট একটি বাধ্যতামূলক দলিল। এটি ছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
- বিদেশি বিভিন্ন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়।
- পাসপোর্ট দেশে কিংবা বিদেশে একটি আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।
- ই-পাসপোর্টে থাকা বায়োমেট্রিক তথ্য যেকোনো দেশে থাকা অবস্থায় ভ্রমণকারীকে সঠিকভাবে সনাক্ত করতে সাহায্য করে।
- বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সেবা, যেগুলো মূলত জন্ম নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা এনআইডি কার্ডের তথ্য প্রদান করতে হয়, সেগুলোর পরিবর্তে শুধুমাত্র পাসপোর্ট নম্বর প্রদান করা যায়।
কারা ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবে?
বাংলাদেশে কারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবে, এটি আমরা অনেকেই জানি না। আমরা শুধু মনে করি, যাদের বয়স ১৮ বছরের উপর এবং যাদের এনআইডি কার্ড রয়েছে, তারাই শুধু আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ধারণাটা ভুল।
- বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক – যে কেউই নিজের পরিচিতির জন্য পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবে।
- প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়।
- এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ ও পিতামাতার এনআইডি কার্ডের তথ্য প্রদান করতে হয়।
- তবে যাদের ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে, তাদের জন্য পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে, যেমন পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অতিরিক্ত যাচাই–বাছাই।
ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে কী কী লাগে?
বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা যারা বিদেশ থেকে Bangladesh E-Passport আবেদন করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে বিশেষ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস রয়েছে। নিচে এগুলো আমি তুলে ধরেছি:
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে
প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বছর কিংবা তার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্টস লাগবে, সেগুলো হচ্ছে:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি
- যদি পুরনো পাসপোর্ট থাকে, সেটিও জমা দিতে হবে
- এনআইডি কার্ড না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ
- চারিত্রিক সনদ বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- বিবাহিত হয়ে থাকলে বিবাহের নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকলে তালাকনামা
- প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদসমূহ, যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট সংযোজন করতে হবে
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে
অপ্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যারা ১৮ বছরের নিচে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য যেসব ডকুমেন্টস লাগবে, সেগুলো হচ্ছে:
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
- পিতা-মাতার এনআইডি কপি
- এবং যদি কোনো পুরনো পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সেটিও সঙ্গে আনতে হবে
প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য
বিদেশে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা রয়েছেন, যারা বাংলাদেশি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্টস লাগবে, সেগুলো হচ্ছে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
- বিদেশে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে রেসিডেন্স পারমিট, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা স্টুডেন্ট ভিসা
- বাংলাদেশ মিশনের অনলাইন আবেদন কপি
- পুরনো পাসপোর্টের কপি
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
তবে এই ডকুমেন্টগুলো সত্যায়নের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সব তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে যাচাই করা হয়। বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্বাক্ষর ও ছবি- এগুলো আবেদন করার পর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে প্রদান করতে হয়।
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম
বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে উপরে আমরা বিস্তারিত জানতে পেরেছি। এখন চলুন, আপনাকে আমি জানিয়ে দিই কিভাবে অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন।
পাসপোর্ট আবেদন বিষয়ে আমারও কিছু নিজস্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেগুলো আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আমি ২০২৩ সালে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলাম।
তবে এখন অনলাইনে সুন্দরভাবে এবং সহজভাবে এই আবেদন করা যায়। চলুন, অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া দেখে নেই।
- বাংলাদেশ থেকে কিংবা বিদেশ থেকে ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে প্রথমেই ভিজিট করুন বাংলাদেশ E-Passport ওয়েবসাইটে।

- এখানে আপনাকে প্রথমেই একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে। প্রথম ধাপেই সেটি হচ্ছে — Are you applying from Bangladesh? অর্থাৎ, আপনি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন নাকি বিদেশ থেকে আবেদন করছেন, সেটি আপনাকে প্রথমে সিলেক্ট করতে হবে।
- যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করেন, তাহলে “হ্যাঁ”, আর যদি বিদেশ থেকে আবেদন করেন, তাহলে সেখানে বিদেশ সিলেক্ট করে দিতে হবে।
- এরপর, যদি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করেন, তাহলে আপনার নিজ জেলার নাম এবং নিকটস্থ থানা সিলেক্ট করতে হবে। আর যদি বাংলাদেশের বাইরে থেকে আবেদন করেন, তাহলে বর্তমানে কোন দেশে আছেন সেটি সিলেক্ট করে, একটি বাংলাদেশ মিশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিচে Continue বাটনে প্রেস করুন।
- এরপর, এখানে আপনার একটি ইমেইল অ্যাড্রেস প্রদান করতে হবে।

- নিচে একটি রোবট শনাক্তকরণ অপশন থাকবে — সেখানে “I’m not a robot” বা “I am human” এর বাম পাশে চেকবক্সে টিক চিহ্ন দিন, তারপর Continue বাটনে প্রেস করুন।
- এরপর একটি ফোন নাম্বার প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশে থাকলে বাংলাদেশি ফোন নম্বর এবং বিদেশে থাকলে সেই দেশের ফোন নম্বর দিতে হবে।

- এরপর Create Account বাটনে প্রেস করলে, আপনার একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। এই অ্যাকাউন্ট থেকেই আপনি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদন করার জন্য, এখানে Apply for a New E-Passport বাটনটিতে ক্লিক করুন।

- এখানে ক্লিক করার পর পাসপোর্ট টাইপ সিলেক্ট করতে হবে। আপনি এখানে দুটি অপশন পাবেন — Ordinary Passport এবং Official Passport।

- Official Passport মূলত তাদের জন্য, যারা সরকারি চাকরিজীবী, প্রশাসনের সদস্য, মন্ত্রী, ব্যারিস্টার ইত্যাদি এলিট পর্যায়ে রয়েছেন। আর সাধারণ নাগরিকদের জন্য হচ্ছে Ordinary Passport।
- সুতরাং, আপনার অবস্থান অনুযায়ী সঠিক অপশনটি সিলেক্ট করে Save and Continue বাটনে প্রেস করুন।

- এরপর, এখানে কয়েকটি ধাপ দেখতে পাবেন। যেমন- Personal Information, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে।

- এরপর রয়েছে Address – বর্তমানে আপনি কোথায় থাকেন এবং আপনার স্থায়ী ঠিকানা কী, সেগুলো উল্লেখ করতে হবে।
- এরপর রয়েছে ID Documents – এখানে আপনার পরিচয়সংক্রান্ত ডকুমেন্টগুলোর তথ্য দিতে হবে। এরপর রয়েছে প্যারেন্টাল ইনফরমেশন, যেখানে আপনার পিতামাতার তথ্য প্রদান করতে হবে।
- তারপরের সেকশন হলো Spouse Information – এখানে যদি আপনি বিবাহিত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জীবনসঙ্গীর তথ্য দিতে হবে।
- এরপর রয়েছে Emergency Contact – অর্থাৎ কোনো কারণে যদি আপনার প্রধান তথ্য অনুযায়ী যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প একজনের নাম ও ফোন নাম্বার দিতে হবে, যেখান থেকে আপনার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
- এরপরের ধাপে রয়েছে Passport Options – এই অংশে আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে আপনি কত পাতার ও কত বছরের মেয়াদী পাসপোর্ট নিতে চাচ্ছেন।

- সবশেষে রয়েছে Delivery Options & Appointment – এখানে আপনি কিভাবে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে চান এবং কখন অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে চান, সে সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হলেই আপনার ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে।
- তবে, পাসপোর্ট ডেলিভারি সেকশনের সময়, আপনার পাসপোর্টের জন্য যে নির্ধারিত মূল্য দেখাবে, সেটি আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে। আপনি চাইলে অনলাইন পেমেন্ট অথবা অফলাইন পেমেন্ট করতে পারেন। তবে, এখানে অনলাইন পেমেন্ট সবচেয়ে সহজ এবং সুবিধাজনক।
- সুতরাং, অনলাইন পেমেন্ট অপশন সিলেক্ট করুন এবং আপনার বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা অন্য যেকোনো ব্যাংক কার্ডের তথ্য দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। পেমেন্ট হয়ে গেলে অবশ্যই পেমেন্ট রিসিটটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
- এখন আপনার কাজ হচ্ছে অনলাইন আবেদনের কপিটি ডাউনলোড করা এবং পেমেন্ট রিসিটের কপি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নেওয়া।
প্রিন্ট করার পর এই দুইটি কপি- আবেদনের সামারি কপি এবং NID কার্ডের ফটোকপি অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি, বিবাহিত হয়ে থাকলে কাবিননামার ফটোকপি, নাগরিকত্ব সনদপত্র, ঠিকানা প্রমাণের জন্য বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি, এবং আপনি বর্তমানে যে পেশায় আছেন সেই পেশার প্রমাণপত্র বা আইডি কার্ডসহ — এসব ডকুমেন্ট আপনার নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে এই ডকুমেন্টগুলো জমা দিতে হবে।
- এরপর, তারা আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য – যেমন ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস স্ক্যান, স্বাক্ষরসহ অন্যান্য যাবতীয় তথ্য গ্রহণ করবে। এরপর তারা আপনাকে একটি রশিদ প্রদান করবে। এই রশিদটি নিয়ে আপনি বাসায় ফিরে আসুন।
- তারা আপনার আবেদনটি যাচাই-বাছাই করবে এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হয়ে গেলে, তারা আপনাকে পাসপোর্ট ডেলিভারির তারিখ সম্পর্কে একটি এসএমএস পাঠাবে।
- এরপর, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের খরচ
এবার চলুন, এই পাসপোর্টের অনলাইন আবেদনের জন্য আপনাকে কত টাকা ফি প্রদান করতে হবে সেটি সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক।
ই-পাসপোর্টের আবেদনের ফি সাধারণত পাসপোর্ট টাইপ, পাসপোর্টের পাতার পরিমাণ, পাসপোর্টের মেয়াদ, এবং আপনি কোথা থেকে আবেদন করছেন, তার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়।
নিচে আপনার সুবিধার্থে এগুলো আমি সুন্দরভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছি।
বাংলাদেশে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে
যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশ থেকেই এই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ফি সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো।
| পাসপোর্ট ধরন | মেয়াদ | সার্ভিস | খরচ |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | রেগুলার | ৪,০২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | এক্সপ্রেস | ৬,৩২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | সুপার এক্সপ্রেস | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | রেগুলার | ৫,৭৫০ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | এক্সপ্রেস | ৮,০৫০ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | সুপার এক্সপ্রেস | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | রেগুলার | ৬,৩২৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | এক্সপ্রেস | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | সুপার এক্সপ্রেস | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | রেগুলার | ৮,০৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | এক্সপ্রেস | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | সুপার এক্সপ্রেস | ১৩,৮০০ টাকা |
বাংলাদেশের বাহিরে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে
যারা বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আবেদন করছেন, বিদেশে যারা স্টুডেন্ট হিসেবে পড়াশোনা করছেন, এবং যারা বাংলাদেশ থেকে গিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন, তাদের জন্য ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ ফি সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো।
| ধরন | মেয়াদ | সার্ভিস | সাধারণ | স্টুডেন্ট / প্রবাসী শ্রমিক |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | Regular | USD 100 | USD 30 |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | Express | USD 150 | USD 45 |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | Regular | USD 125 | USD 50 |
| ৪৮ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | Express | USD 175 | USD 75 |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | Regular | USD 150 | USD 150 |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | Express | USD 200 | USD 200 |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | Regular | USD 175 | USD 175 |
| ৬৪ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | Express | USD 225 | USD 225 |
পাসপোর্ট হাতে পেতে কত সময় লাগে?
পাসপোর্ট অনলাইনে আবেদন করার পর এটি হাতে পেতে কতদিন সময় লাগতে পারে, সেটি আমাদের অনেকেরই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন। ই-পাসপোর্ট আবেদন করার পর, যখন সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়, তখন থেকেই মূলত এটির প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়।
ই-পাসপোর্ট ডেলিভারির তিনটি সিস্টেম রয়েছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে রেগুলার ডেলিভারি, আরেকটি হচ্ছে এক্সপ্রেস ডেলিভারি, এবং অন্যটি হচ্ছে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি।
রেগুলার ডেলিভারি বলতে বোঝায় ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হয়। যদি আপনার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রয়োজন হয়, তাহলে এক্সপ্রেস ডেলিভারি সুবিধা সবসময় রয়েছে।
আর যদি আপনার ২ দিনের মধ্যেই পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়, তাহলে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির অপশন ব্যবহার করতে পারেন।
তবে এক্সপ্রেস ডেলিভারি এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য আপনাকে অতিরিক্ত চার্জ বহন করতে হবে, যেগুলো আমি উপরে পাসপোর্ট ফি সংক্রান্ত টেবিলে উল্লেখ করেছি।
ই-পাসপোর্ট আবেদন করার পর এটি এপ্রুভ হলো কিনা কিংবা ডেলিভারির জন্য রেডি হলো কিনা তা জানতে ভিজিট করুন ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম পেইজে।
ই-পাসপোর্ট এর মেয়াদ ও নবায়ন
আলোচনার সূচনায় আমি একবার বলেছিলাম, বাংলাদেশী এই পাসপোর্টের ভ্যালিডিটি সাধারণত ৫ বছর অথবা ১০ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। যখন আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবে, তার তিন মাস পূর্ব থেকেই পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাংলাদেশে থাকুন বা বিদেশে অবস্থান করুন, বাংলাদেশের অফিসিয়াল পাসপোর্ট পোর্টাল কিংবা বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আপনি সহজেই পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন।
পাসপোর্ট আবেদনের সময় যেভাবে ফি নির্ধারণ করা হয়, নবায়নের ক্ষেত্রেও একই রকম ফি প্রযোজ্য হবে আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ এবং পাতার সংখ্যার ভিত্তিতে।
E-Passport Bangladesh – প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ও উত্তর
এই অংশে বাংলাদেশী ই পাসপোর্ট সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
পাসপোর্ট করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন?
হ্যাঁ, বর্তমান নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশী পাসপোর্ট করতে পুলিশ ভেরিফিকেশন দরকার। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট করতে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না এমন একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে যা এখনও কার্যকর হয় নি।
আমার এক্সপায়ার হওয়া পাসপোর্ট কি রিনিউ করতে পারব?
জি, হ্যাঁ, আপনি এক্সপায়ার হওয়া পাসপোর্ট রিনিউ করতে পারবেন।
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট সিস্টেমে, যেসব পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে (এক্সপায়ার্ড), সেগুলোও নতুন ই-পাসপোর্টে রিনিউ করা যায়।
একই সাথে একাধিক পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে?
না, একজন ব্যক্তি একই সাথে একাধিক পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের জন্য কেবল একটি বৈধ পাসপোর্টই অনুমোদিত। এটি আন্তর্জাতিক নিয়মের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। যদি কেউ একাধিক পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন বা রাখেন, তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
শেষ কথা
তো প্রিয় বাংলাদেশী বন্ধু, কিংবা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভাই-বোন, এটি ছিল বাংলাদেশী ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশী ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত উপরের তথ্যগুলো ছাড়াও, যদি আপনি আরও কিছু জানতে চান কিংবা পাসপোর্ট আবেদন করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়ে থাকেন, অথবা কিছু বুঝতে না পারেন তাহলে আপনি আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার সমস্যাটি তুলে ধরতে পারেন।
আমাদের টিম সবসময় আপনাকে রেসপন্স করার জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।

One Comment