নাম্বার দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক: আপনার NID কয়টি সিম আছে
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আপনি কি জানেন, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে কয়টি সিম নিবন্ধিত বা রেজিস্ট্রেশন করা আছে? নিরাপদ থাকতে এবং নিজের নামে থাকা সিমের সংখ্যা জানতে NID নাম্বার দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করা অত্যন্ত জরুরি।
অনেক সময় আমরা অজান্তেই নিজের আইডি কার্ড দিয়ে অন্যদের সিম তুলে দিই, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি ঝামেলার কারণ হতে পারে। আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ঘরে বসেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে আপনার এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সিমের তালিকা দেখতে পারেন।
ফোন নাম্বার কার নামে রেজিস্ট্রেশন করা জানবেন কীভাবে?(sim kar name registration check online)

আপনার এনআইডি কার্ড দিয়ে ঠিক কতটি এবং কোন কোন নম্বরগুলো নিবন্ধিত আছে। এটি জানার প্রক্রিয়া খুবই সহজ:
-
আপনার ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *১৬০০১# লিখে ডায়াল করুন।
-
ফিরতি মেসেজে আপনার এনআইডি কার্ডের শেষ ৪টি ডিজিট চাওয়া হবে। সেটি লিখে সেন্ড করুন।
-
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি এসএমএস পাবেন যেখানে আপনার নামে নিবন্ধিত সকল সিমের নম্বরের তালিকা (আংশিক ঢাকা) দেওয়া থাকবে।
যদি দেখেন এমন কোনো নম্বর সেখানে আছে যা আপনি ব্যবহার করেন না বা হারিয়ে গেছে, তবেই সেটি বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
NID নাম্বার দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করার পদ্ধতি

বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতিতে সিম চেক করা যায়। একটি হলো USSD কোড ডায়াল করে এবং অন্যটি হলো অ্যাপ ব্যবহার করে।
১. USSD কোড ব্যবহার করে (সরাসরি পদ্ধতি)
এটি সবথেকে সহজ এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি। এর জন্য আপনার ফোনে কোনো ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই।
যেকোনো ফিচারের ফোন বা স্মার্টফোন থেকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
-
আপনার মোবাইলের ডায়াল প্যাডে যান।
-
ডায়াল করুন *16001#।
-
ডায়াল করার পর একটি ফিরতি মেসেজ বা পপ-আপ আসবে, যেখানে আপনার National ID (NID) কার্ডের শেষ ৪টি ডিজিট লিখতে বলা হবে।
-
আপনার এনআইডি কার্ডের শেষ ৪টি সংখ্যা লিখে ‘Send’ বাটনে ক্লিক করুন।
-
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি ফিরতি এসএমএস আসবে। সেখানে আপনার ওই এনআইডি কার্ড দিয়ে নিবন্ধিত সকল সিমের নম্বর (পুরো নম্বর নয়, শুরুর এবং শেষের কয়েক ডিজিট) এবং মোট সিমের সংখ্যা দেওয়া থাকবে।
সতর্কতা: এই সার্ভিসটি ব্যবহার করার জন্য আপনার ফোনে কোনো চার্জ কাটবে না, তবে আপনার কাছে অবশ্যই একটি বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত সিম থাকতে হবে।
২. বিভিন্ন অপারেটরের অ্যাপ ব্যবহার করে
বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং এয়ারটেল- সব অপারেটরেরই নিজস্ব অফিসিয়াল অ্যাপ রয়েছে। আপনি যদি এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করেন, তবে সেখান থেকেও তথ্য জানতে পারেন।
-
MyGP অ্যাপ: অ্যাপের ‘Menu’ থেকে নিচের দিকে স্ক্রল করলে ‘Sim You Own’ বা ‘Ownership’ অপশন পাবেন। সেখানে এনআইডি নম্বর দিলে নিবন্ধিত সিমের তালিকা দেখা যায়।
-
MyRob/MyAirtel অ্যাপ: এই অ্যাপগুলোর প্রোফাইল সেকশনে গিয়েও সিম রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম: GP, Robi, Airtel, Banglalink & Teletalk
বিভিন্ন অপারেটরের কোড তালিকা
যদিও *16001# কোডটি সকল অপারেটরের জন্য সমানভাবে কাজ করে, তবুও অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ভিন্ন ভিন্ন অপারেটরের ক্ষেত্রে ছোটখাটো পার্থক্য থাকতে পারে। তবে বিটিআরসির নির্দেশনায় এখন এই একটি কোডই সার্বজনীন করা হয়েছে।
| অপারেটর | ডায়াল কোড | প্রয়োজনীয় তথ্য |
| গ্রামীণফোন(GP-জিপি) সিম রেজিস্ট্রেশন চেক | *16001# |
NID এর শেষ ৪ ডিজিট |
| বাংলালিংক(BL) সিম রেজিস্ট্রেশন চেক | *16001# |
NID এর শেষ ৪ ডিজিট |
| রবি(Robi) সিম রেজিস্ট্রেশন চেক | *16001# |
NID এর শেষ ৪ ডিজিট |
| এয়ারটেল (Airtel) সিম কার নামে রেজিস্ট্রেশন | *16001# |
NID এর শেষ ৪ ডিজিট |
| টেলিটক (Teletalk) | *16001# |
NID এর শেষ ৪ ডিজিট |
আপনার নামে অপরিচিত সিম থাকলে কী করবেন?
সিম চেক করার পর যদি দেখেন এমন কোনো নম্বর আপনার এনআইডি দিয়ে রেজিস্টার করা যা আপনি চেনেন না বা ব্যবহার করছেন না, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন:
যদি কোনো নম্বর আপনার মনে হয় অবৈধভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তবে সেই সিম অপারেটরের (যেমন- জিপি হলে জিপি সেন্টারে) কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন।
সিম বন্ধ করা:
কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আপনার অরিজিনাল এনআইডি কার্ড দেখিয়ে ওই সিমটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিন।
জিডি (General Diary) করা:
যদি আপনি মনে করেন আপনার এনআইডি দিয়ে কেউ বড় কোনো জালিয়াতি করছে, তবে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রাখা নিরাপদ।
কেন সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করা প্রয়োজন?
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন নাগরিক তার একটি এনআইডি কার্ড দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কার্ড নিবন্ধন করতে পারেন। সিম চেক করা কেন গুরুত্বপূর্ণ তার কিছু মূল কারণ নিচে দেওয়া হলো:
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা:
আপনার অজান্তে কেউ যদি আপনার আইডি দিয়ে সিম ব্যবহার করে কোনো অপরাধমূলক কাজ করে, তবে তার দায়ভার আপনার ওপর আসতে পারে।
সিমের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ:
আপনি সর্বোচ্চ কয়টি সিম ব্যবহার করছেন এবং আর কয়টি সিম তোলার সুযোগ আছে তা জানতে এটি সাহায্য করে।
হারিয়ে যাওয়া সিম শনাক্তকরণ:
অনেক সময় আমরা পুরনো সিম হারিয়ে ফেলি যা বন্ধ করা হয় না। এই চেকের মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব।
সিম রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
আমি কি অন্যের এনআইডি দিয়ে আমার সিম চেক করতে পারব?
না, যে সিম কার্ডটি দিয়ে আপনি কোড ডায়াল করছেন, সেটি যে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত, তথ্য জানতে সেই এনআইডির শেষ ৪ ডিজিটই প্রয়োজন হবে।
এনআইডির শেষ ৪ ডিজিট দেওয়ার পর কোনো মেসেজ না আসলে কী করব?
নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে এমন হয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। অথবা নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সঠিক এনআইডি নম্বর দিচ্ছেন কি না।
নাম্বার দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন চেক- এই সার্ভিসের জন্য কি টাকা কাটে?
না, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি সেবা।
উপসংহার
প্রযুক্তির এই যুগে নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আপনার এনআইডি দিয়ে কয়টি সিম নিবন্ধিত তা জানা আপনার নাগরিক দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। আজই *16001# ডায়াল করে চেক করে নিন আপনার নামে কয়টি সিম চলছে। এতে আপনি যেমন সুরক্ষিত থাকবেন, তেমনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।
এই ব্লগটি আপনার উপকারে আসলে প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন যাতে তারাও তাদের সিম রেজিস্ট্রেশন চেক করে নিরাপদ থাকতে পারে।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
