আমি প্রবাসী সার্টিফিকেট চেক ও ডাউনলোড করার নিয়ম ২০২৬
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
বি এম ই টি রেজিস্ট্রেশন এবং ট্রেনিং করার পর একটি করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়, এবং অনলাইন থেকে যেকোনো সময় পাসপোর্ট নাম্বারের সাহায্যে আমি প্রবাসী বিএমইটি কার্ড ডাউনলোড করে নেওয়া যায়।
আমার ভাই কিছুদিন আগে বিএমইটি করার পর কাতারে গিয়েছেন, একজন সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার জন্য।
ট্রেনিং করার দু’ থেকে তিনদিন পরেই আমি তাকে অনলাইন থেকে পাসপোর্ট নাম্বারের সাহায্যে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করে দিয়েছিলাম। চলুন, আপনাকে দেখিয়ে দেই অনলাইনে কিভাবে স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করা যায়।
আমি প্রবাসী বিএমইটি স্মার্ট কার্ড
বিএমইটি এর অর্থ হচ্ছে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং। এটি একটি অফিসিয়াল আইডেন্টিফিকেশন ডকুমেন্ট, যা বাংলাদেশ সরকার করছে এবং এটি তাদেরকেই প্রদান করা হয়, যারা কাজ করার জন্য বিদেশে যাবেন।
যে কোনো কাজই হোক না কেন, যারা বাংলাদেশ থেকে অন্য যেকোনো দেশে পাড়ি দিবেন, তাদের জন্য অবশ্যই বি এম ই টি স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন হবে।
বিদেশে গিয়ে কিভাবে চলাফেরা করবেন, কিভাবে কাজ করবেন এবং অন্যদের সাথে কিভাবে সম্পর্ক রাখবেন, অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলী ইত্যাদি সমস্ত কিছু এখানেই ট্রেনিং করানো হয়।
ট্রেনিং শেষ করার পর একটি স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়। এটি মূলত দেশ ত্যাগের সময় প্রয়োজন হয় ইমিগ্রেশন পয়েন্টে।
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড চেক ও ডাউনলোড করার নিয়ম
BMET স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করার জন্য শুধুমাত্র পাসপোর্ট নাম্বারের প্রয়োজন হবে। তাহলে চলুন, পাসপোর্ট নাম্বারের সাহায্যে কিভাবে বিএমইটি ট্রেনিং সার্টিফিকেট চেক, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করবেন, সেটি নিচে দেখিয়ে দিয়েছি। এটি অনুসরণ করুন।
- প্রথমেই ভিজিট করুন BMET Smart Card Download ওয়েবসাইটে। এখানে ভিজিট করলে দেখতে পাবেন, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড সেকশন রয়েছে। এই সেকশনের নিচে দুটি বক্স রয়েছে।

- প্রথম বক্সে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার প্রদান করুন। এরপর দ্বিতীয় বক্সের উপরে চারটি ডিজিট থাকবে। এই চারটি ডিজিট আইডেন্টিফাই করে ক্যাপচা বক্সে বসিয়ে দিতে হবে।
- এই তথ্যগুলো দেওয়া হয়ে গেলে নিচে “Search BMET Smart Card” বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে পেজটি রিলোড হবে এবং নিচে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড চলে আসবে।
এই বিএমইটি স্মার্ট কার্ডে ক্লিয়ারেন্স আইডি, নাম, পাসপোর্ট নাম্বার, ভিসা নাম্বারসহ অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য দেওয়া থাকবে। আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, কোন পজিশনে যাচ্ছেন—এই তথ্যগুলোও দেওয়া থাকে।
সুতরাং, এই কার্ডটি আপনি অনলাইন থেকে প্রিন্ট করে নিন। আপনি চাইলে এটিকে লেমিনেট বা এটিএম কার্ডের মতো করে নিতে পারেন, তবে তা জরুরি নয়।
এটি শুধুমাত্র তখনই প্রয়োজন হবে, যখন আপনি দেশ ত্যাগ করবেন। তখন ইমিগ্রেশন পয়েন্টে জানতে চাওয়া হতে পারে, আপনার স্মার্ট কার্ড আছে কিনা। তখন সেটি দেখাতে হবে। এরপর আর এটি প্রয়োজন নেই।
বিএমইটি স্মার্ট কার্ড কাদের দরকার?
বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে যান, সবার জন্য বিএমইটি স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন নয়। শুধুমাত্র যারা কাজ করার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাবেন, তাদের ক্ষেত্রেই বিএমইটি স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন হয়।
তবে যারা টুরিস্ট বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাবেন, কিংবা স্টাডি করার উদ্দেশ্যে যাবেন, ফ্যামিলি ভিজিট করে যদি কোনো উদ্দেশ্য থাকে, কিংবা বিজনেস ট্রাভেলের ক্ষেত্রে, তাদের জন্য বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন নেই।
বিএমইটি স্মার্ট কার্ড আপনার কেন দরকার?
বিএমইটি স্মার্ট কার্ড অবশ্যই একটি প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল ডকুমেন্ট, যদি আপনি বাংলাদেশের বাইরে কোনো কাজের জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এটি মূলত প্রত্যেকটি জেলার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রদান করা হয়। প্রথমে বিএমইটির রেজিস্ট্রেশন করা হয়। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে তিন দিন বা পাঁচ দিনের মতো ট্রেনিং প্রদান করা হয়।
ট্রেনিং শেষ হয়ে গেলে অনলাইনে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড চলে আসে। এটি বিভিন্ন কারণে প্রদান করা হয়, যেমন আপনি এমন এক দেশে যাচ্ছেন, যেখানে আপনার কোনো পরিচিত নেই।
আপনি কিভাবে যাবেন, সেখানে গিয়ে কী করবেন, কার সঙ্গে দেখা করবেন, কিভাবে কাজ করবেন, অন্যদের সঙ্গে কিভাবে কথা বলবেন, কিভাবে সমন্বয় সাধন করে কাজ করবেন—সে সম্পর্কিত বিস্তারিত সকল কিছুই শেখানো হয়।
এর অর্থই হচ্ছে আপনি যেন বিদেশে গিয়ে কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি না হন। এজন্যই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রত্যেক বিদেশগামীদের জন্য একটি ট্রেনিং প্রদান করা হয়।
ট্রেনিং শেষে একটি স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে আপনি বিদেশে গিয়ে নিজেকে ভালোভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম।
বিএমইটি স্মার্ট কার্ড কি সাথে করে বিদেশে নিয়ে যেতে হবে?
হ্যাঁ, যখন আপনি বিদেশ যাবেন, তখন এটি অবশ্যই আপনার সাথে থাকতে হবে। এটির একটি পিডিএফ কপি আপনার ফোনে রাখুন এবং একটি প্রিন্ট কপি নিজের ডকুমেন্টস বক্সে রাখুন। যেদিন আপনার ফ্লাইট রয়েছে, সেদিন অবশ্যই অন্যান্য ডকুমেন্টগুলোর সাথে এই বিএমইটি স্মার্টকার্ডটি সঙ্গে নেবেন।
যখন ইমিগ্রেশন পয়েন্টে যাবেন, তখন এটি আপনাকে দেখাতে হবে। তবে ইমিগ্রেশন পয়েন্ট পার হয়ে গেলে, পরবর্তীতে এটার আর কোনো প্রয়োজন হবে না। আপনি যখন বিদেশে পৌঁছে যাবেন, তখন এই বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের আর কোনো দরকার নেই।
তবে, যদি কোনো কারণে প্রয়োজন পড়ে, তাহলে অনলাইন থেকে উপরের পদ্ধতি অনুযায়ী আপনি যেকোনো সময় পাসপোর্ট নাম্বারের মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
আমি প্রবাসী বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের মেয়াদ কতদিন?
বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের ভ্যালিডিটি পিরিয়ড সম্পর্কে অনেকে জানতে চান। বিদেশ যাওয়ার জন্য যদি আপনি প্ল্যান করেন এবং বিএমইটির রেজিস্ট্রেশন করেন, তাহলে বাংলাদেশে অবস্থান করার সময় পর্যন্ত এটির মেয়াদ থাকবে।
যখনই আপনি বাংলাদেশ থেকে ডিপারচার করবেন, তখন থেকেই এটির প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে এবং তখন এর মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।
তবে মনে রাখবেন, বিএমইটি ট্রেনিং করার পর সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকে। তিন মাসের মধ্যে যদি আপনি বিদেশ যেতে না পারেন, তাহলে আপনাকে পুনরায় বিএমইটি ট্রেনিং করতে হবে।
এটা কি শুধু একবারই ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ, বিএমইটি স্মার্টকার্ডটি শুধুমাত্র একটি সিঙ্গেল ইউজ কার্ড। আপনি যখন বাংলাদেশ থেকে ডিপার্ট করবেন, শুধুমাত্র তখনই এটি প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পয়েন্ট পার হয়ে গেলেই এটি আর আপনার প্রয়োজন হবে না।
বিদেশে পৌঁছানোর পর কেউ আপনাকে আর বিএমইটি স্মার্ট কার্ড সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করবে না, বাইরে দেখতেও চাইবে না। তবে নতুন কোনো ইন্টারন্যাশনাল জব পাওয়ার ক্ষেত্রে পুনরায় এটি আপনার প্রয়োজন হতে পারে।
শেষ কথা
তো প্রিয় বিদেশগামী বন্ধুরা, যারা কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন—আপনাদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে শুভ কামনা এবং মনের গভীর থেকে দোয়া রইল। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য অনেক পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন, সুতরাং আপনাদের চিন্তা করার কিছু নেই।
বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন, যেন ওখানে গিয়ে কোনো সমস্যায় না পড়েন। তবে দালালদের থেকে সব সময় সচেতন থাকবেন। যেদিন ফ্লাইট রয়েছে, সেদিন অবশ্যই পাসপোর্ট, ভিসা, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড, টিকিট সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো সঙ্গে রাখবেন।
শুধু প্রিন্ট করা কপি করলেই হবে না, আপনার ফোনেও এগুলো পিডিএফ আকারে কিংবা ছবি আকারে অবশ্যই সেভ করে রাখবেন।
আমি আমার দুলাভাই, বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। ইমিগ্রেশন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা থাকলে কমেন্ট বক্সে শেয়ার করুন, আপনাকে সাহায্য করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করব।
ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার যাত্রা শুভ হোক।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
