সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম: GP, Robi, Airtel, Banglalink & Teletalk
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
বিটিআরসি-র নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। অনেক সময় আমাদের অজান্তেই আমাদের নামে অনেকগুলো সিম নিবন্ধিত হয়ে থাকে, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে।
আজকের ব্লগে আমরা বিস্তারিত জানাব সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম, কেন এটি করা প্রয়োজন এবং ঘরে বসে বা কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আপনি কীভাবে এই কাজটি সম্পন্ন করবেন।
সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম (অপারেটর ভিত্তিক)
বাংলাদেশের প্রধান মোবাইল অপারেটরগুলোর সিম বাতিল করার পদ্ধতি প্রায় একই রকম হলেও কিছু ছোটখাটো পার্থক্য রয়েছে।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. গ্রামীণফোন (Grameenphone) সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম
গ্রামীণফোনের সিম বাতিলের জন্য বর্তমানে কোনো অনলাইন বা এসএমএস পদ্ধতি নেই। আপনাকে নিকটস্থ জিপি সেন্টার (GP Center) বা কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে।
-
আপনার সাথে আসল এনআইডি কার্ড এবং যার নামে সিমটি কেনা তাকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে (যেহেতু বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন প্রয়োজন)।
-
কাস্টমার ম্যানেজারকে আপনার সমস্যার কথা বলুন এবং নির্দিষ্ট নম্বরটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার অনুরোধ জানান।
২. বাংলালিংক (Banglalink) সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম
বাংলালিংক সিমের ক্ষেত্রেও আপনাকে নিকটস্থ বাংলালিংক পয়েন্ট বা কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে।
-
প্রতিনিধিকে জানান যে আপনি নম্বরটি আর ব্যবহার করতে চান না।
-
আপনার আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে সিমটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।
৩. রবি এবং এয়ারটেল (Robi & Airtel) সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম
রবি এবং এয়ারটেল গ্রাহকরা চাইলে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অথবা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তাদের অফিসিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তথ্য নিতে পারেন। তবে স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য সশরীরে উপস্থিত হওয়া এবং বায়োমেট্রিক প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
৪. টেলিটক (Teletalk) সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম
সরকারি এই অপারেটরের সিম বাতিল করতে হলে আপনাকে নিকটস্থ টেলিটক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে একটি লিখিত আবেদন করতে হতে পারে অথবা বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সিমটি ডিঅ্যাক্টিভেট করতে হবে।
ঘরে বসে কি সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা সম্ভব?
অনেকেই প্রশ্ন করেন যে ঘরে বসে কোনো অ্যাপ বা কোড ডায়াল করে সিম বাতিল করা যায় কি না। এর উত্তর হলো- না, সম্পূর্ণভাবে সম্ভব নয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে বিটিআরসি নিয়ম করেছে যে, সিম বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই গ্রাহকের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন (আঙুলের ছাপ) প্রয়োজন।
তবে আপনি যদি সিমটি হারিয়ে ফেলেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমার কেয়ারে কল করে (যেমন জিপি-এর জন্য ১২১) সিমটি সাময়িকভাবে ব্লক করে রাখতে পারেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সশরীরে কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: সিমের মালিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম (Ownership Transfer)
সিম বাতিলের সময় যা যা সাথে নিতে হবে
কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:
-
আপনার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
-
যে সিমটি বাতিল করতে চান সেই সিম নম্বর।
-
সিমটি যদি আপনার কাছে থাকে তবে সেটি সাথে নিতে পারেন (তবে বাধ্যতামূলক নয়)।
-
ব্যক্তিকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে কারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রয়োজন হবে।
কেন সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা জরুরি?
অনেকেই ভাবেন সিমটি ফেলে দিলেই বোধহয় সব শেষ। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।
সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা কেন গুরুত্বপূর্ণ তার কিছু প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো:
নিরাপত্তা ঝুঁকি:
আপনার নামে নিবন্ধিত সিম দিয়ে যদি অন্য কেউ কোনো অপরাধমূলক কাজ করে, তবে আইনত দায়ভার আপনার ওপরই আসবে।
১৫টি সিমের সীমা:
আপনি যদি অপ্রয়োজনীয় সিমগুলো বাতিল না করেন, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলেও আপনি নতুন কোনো সিম কিনতে পারবেন না যদি আপনার কোটা (১৫টি) পূর্ণ হয়ে থাকে।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা:
বর্তমানে সিম কার্ডের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফেসবুক এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যুক্ত থাকে। সিমটি সচল থাকলে আপনার তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে।
সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য জরুরি পরামর্শ
হারানো সিম:
যদি আপনার সিম হারিয়ে যায়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (GD) করুন এবং কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে সিমটি তুলে নিন অথবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করুন।
অব্যবহৃত সিম:
টানা ৪৫০ দিন বা ১৫ মাস একটি সিম অব্যবহৃত থাকলে অপারেটর সেটি পুনরায় বিক্রির অধিকার রাখে। তবে আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই নিজ উদ্যোগে বন্ধ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রতারণা থেকে সাবধান:
আপনার এনআইডি কার্ডের তথ্য বা ওটিপি (OTP) অপরিচিত কাউকে দেবেন না। এতে আপনার অজান্তেই আপনার নামে সিম তুলে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
উপসংহার
সঠিকভাবে সিমের ব্যবস্থাপনা আমাদের ডিজিটাল লাইফকে অনেক বেশি নিরাপদ রাখে। আপনার নামে কয়টি সিম আছে তা আজই পরীক্ষা করুন এবং অপ্রয়োজনীয় নম্বরগুলো দ্রুত বাতিল করুন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই আপনাকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে পারে।
আশা করি এই ব্লগটি আপনার উপকারে আসবে। সিম রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।

আমি আসিফ মাহমুদ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ (অনার্স) পড়াশোনা করেছি। আমি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন নাগরিক সেবা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য ব্লগ লিখি। আমার লক্ষ্য জটিল আর্থিক ও সরকারি সেবা প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরে পাঠকদের সময় ও ঝামেলা কমানো।
